কলকাতা, ১৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সভা করার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে শর্তসাপেক্ষে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে সভা করতে পারবেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভায় সর্বাধিক ১,০০০ জন অংশ নিতে পারবেন বলে বৃহস্পতিবার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সভাটি করতে হবে। সভা শেষ হওয়ার পর কোনও রকম মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। পাশাপাশি, আয়োজকদের এমন কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না, যার ফলে সংলগ্ন ব্যস্ত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের পক্ষ থেকে শ্রীরামপুরে ২,০০০ দলীয় কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে সভা করার আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাতে আপত্তি জানানো হয়। সরকারের আইনজীবী আদালতে জানান, শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দান তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ। এছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেড-প্লাস নিরাপত্তা পান। ফলে তাঁর নিরাপত্তার জন্য মঞ্চের সামনের একটি নির্দিষ্ট অংশ খালি রাখতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও যুক্তি দেওয়া হয়, ওই খালি জায়গার বাইরে ২,০০০ মানুষ জড়ো হলে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের এই যুক্তির বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি একই জায়গায় বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষালের একটি অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সর্বাধিক ১,০০০ জনের উপস্থিতিতে সভা করার অনুমতি দেন।
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুরে সভার পর মিছিল করার পরিকল্পনা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের। কিন্তু পুলিশি অনুমতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছায়। সেই সময় একই একক বেঞ্চ শ্রীরামপুরের মহেশ এলাকায় স্নানপিড়ি ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার অনুমতি দিয়েছিল।
এরপর সংলগ্ন জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ড ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। তাদের দাবি ছিল, স্নানপিড়ি ময়দানটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং সেখানে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে ডিভিশন বেঞ্চ বিষয়টি ফের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। এরপর বৃহস্পতিবার শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে অন্য একটি স্থানে নির্দিষ্ট শর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়।
_____
























