শ্রীনগর, ১৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পড়ুয়াদের মাদক, অনলাইন বেটিংসহ সোশ্যাল মিডিয়ার নানা ফাঁদ এবং সহজে পাওয়া আনন্দের প্রলোভন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন কাশ্মীরের ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) সুজিত কুমার। একই সঙ্গে তিনি পড়ুয়াদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপর আস্থা রেখে ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার শ্রীনগরের একটি স্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অভিভাবক, শিক্ষক ও পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আইজিপি সুজিত কুমার বলেন, পড়ুয়াদের পাশে থাকার জন্য পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উচিত শিক্ষকদের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং অভিভাবকদের উপর বিশ্বাস রাখা।
পড়ুয়াদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “মাদক থেকে দূরে থাকুন। বেটিংয়ের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদ থেকেও দূরে থাকুন। ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কখনও সহজ রাস্তা বা তাৎক্ষণিক আনন্দের সন্ধান করবেন না।” তাঁর কথায়, তরুণদের মধ্যে সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিভা, কল্পনাশক্তি ও শক্তি রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক তৃপ্তির প্রলোভন থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে।
আইজিপি বলেন, বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের ক্ষতিকর কার্যকলাপ তরুণদের আকৃষ্ট করছে। বেটিং ও প্রতারণার মতো বিষয়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া অনেক সময় তরুণদের জন্য একটি ফাঁদে পরিণত হতে পারে। তাই ভবিষ্যতের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হলে দৃঢ় মানসিকতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ জরুরি।
তিনি পড়ুয়াদের শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা নেওয়ার পাশাপাশি শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেন। তাঁর কথায়, নিজেদের শক্তিকে একত্রিত করে ভালো শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের পরামর্শ মেনে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
অনুষ্ঠানে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসের কথাও তুলে ধরেন আইজিপি। তিনি জানান, ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠানের প্রথম অধ্যক্ষ জে. এইচ. নোলিস মাত্র পাঁচজন পড়ুয়াকে নিয়ে স্কুলটির যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরে ক্যানন সি. এস. টিন্ডেল বিসকো স্কুলে যোগ দেওয়ার পর পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ২০০ থেকে বেড়ে এক হাজারে পৌঁছায়। এই দীর্ঘ যাত্রাকে তিনি সাফল্য, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিজের স্কুলজীবনের একটি শিক্ষার কথাও স্মরণ করেন সুজিত কুমার। তিনি জানান, তাঁর এক শিক্ষক বলেছিলেন, মানবসভ্যতার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সভ্যতা ও সংস্কৃতি। সভ্যতাকে বাগানের গোলাপের সঙ্গে তুলনা করে ওই শিক্ষক বলেছিলেন, সংস্কৃতি হল সেই গোলাপের সুগন্ধ। গোলাপের ফুল গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা গেলেও তার সুগন্ধকে আলাদা করা যায় না।
অনুষ্ঠানে শিমলা ও কাশ্মীরের সংস্কৃতির মিলনকে হিমালয়ের দুই উপত্যকার ‘সুগন্ধ’-এর সঙ্গে তুলনা করেন আইজিপি। তাঁর মতে, অনুষ্ঠানে যে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন দেখা গেছে, তা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বাইরের রাজ্য থেকে আসা অভিভাবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাগত জানিয়ে আইজিপি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের নিজস্ব শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিচয় রয়েছে। এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং তাঁদের হাত ধরেই আগামী প্রজন্ম এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, মাদক, অনলাইন বেটিং, সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদ এবং প্রতারণার মতো নতুন সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা জরুরি। যতদিন এই সংস্কৃতির সুগন্ধ বজায় থাকবে, ততদিন শিশুদের নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রেও আশাবাদী থাকা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কাশ্মীরের স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া পড়ুয়াদের নিজেদের শিকড় ও পরিচয় তুলে ধরার আহ্বান জানান আইজিপি। তিনি বলেন, তাঁদের জানাতে হবে তাঁরা কোন মাটির সন্তান এবং কাশ্মীরের শক্তি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কী।
আইএএনএস



















