আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: আদিবাসী শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি নিয়ে বুধবার আদিবাসী কল্যাণ দপ্তরের পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (টিএসইউ)। টিএসইউর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি দীপ সেনা দেববর্মা এবং সাধারণ সম্পাদক সুজিত ত্রিপুরার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল এদিন দপ্তরের পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে।
টিএসইউর সাধারণ সম্পাদক সুজিত ত্রিপুরা বলেন, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা সহায়তা, হোস্টেলের খাবারের মান এবং ছাত্রীদের জন্য স্থায়ী আবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তারা দাবি জানিয়ে আসছেন।
টিএসইউর প্রথম দাবি, রাজ্যের ট্রাইবাল হোস্টেলগুলিতে স্থায়ী হোস্টেল ওয়ার্ডেন এবং স্থায়ী নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করতে হবে। সংগঠনের অভিযোগ, হোস্টেলগুলিতে স্থায়ী ওয়ার্ডেন ও নিরাপত্তারক্ষীর অভাবের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে।
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি হোস্টেলের এক ছাত্রীর ছাদ পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাটিও উল্লেখ করে টিএসইউ। বর্তমানে ওই ছাত্রী জিবি হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে আগরতলার বিভিন্ন হোস্টেলে অতীতে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনাও তুলে ধরে সংগঠনটি।
অনঙ্গমোহিনী হোস্টেলে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী এবং স্পোর্টস অ্যাকাডেমির হোস্টেলে এক আদিবাসী ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখ করে টিএসইউ প্রশ্ন তোলে, রাজধানী শহরের হোস্টেলগুলিতে বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও এর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয় কেন।
সংগঠনের অভিযোগ, প্রতিটি ঘটনার পর তদন্তের কথা বলা হলেও তদন্তের অগ্রগতি বা ফলাফল সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়, সেজন্য হোস্টেলগুলিতে স্থায়ী ওয়ার্ডেন ও নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।
টিএসইউ জানায়, দপ্তরের পক্ষ থেকে হোস্টেল ওয়ার্ডেন ও নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের। টিএসইউর প্রশ্ন, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার স্বার্থে স্থায়ী নিয়োগ করা হবে না কেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতেই জোর দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় দাবিতে, হোস্টেলের ছাদ থেকে পড়ে আহত ছাত্রী জুবিকা ত্রিপুরার চিকিৎসার যাবতীয় খরচ সরকার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বহন করার দাবি জানানো হয়েছে। টিএসইউর বক্তব্য অনুযায়ী, জুবিকা ত্রিপুরা প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসে পড়াশোনা করছেন এবং বর্তমানে তাঁর পায়ে গুরুতর চোট রয়েছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানা গেছে। তাই তাঁর চিকিৎসার জন্য যত আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন, তা দপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তৃতীয় দাবিতে, আগরতলা শহরের সরকারি ও এনজিও পরিচালিত হোস্টেলগুলিতে শিক্ষার্থীদের খাবারের মান ও পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে টিএসইউ। সংগঠনের দাবি, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর মাথাপিছু খাবারের বরাদ্দ ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হলেও বাস্তবে অনেক হোস্টেলে খাবারের মান এখনও সন্তোষজনক নয়। কোথাও কোথাও এক বস্তা আলু দিয়ে প্রায় এক মাস চালিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সরকারি আধিকারিকদের হোস্টেলগুলি পরিদর্শন করে খাবারের মান ও পরিমাণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
চতুর্থ দাবিতে, আগরতলা শহরের ডিগ্রি কলেজগুলিতে পড়াশোনা করা গ্রামাঞ্চলের ছাত্রদের জন্য একটি স্থায়ী হোস্টেল নির্মাণের দাবি জানিয়েছে টিএসইউ। সংগঠনের বক্তব্য, শহরে উচ্চশিক্ষার জন্য আসা বহু ছাত্রকে আবাসনের সমস্যায় পড়তে হয়। তাই তাঁদের সুবিধার জন্য আগরতলা শহরে ছাত্রদের জন্য একটি স্থায়ী হোস্টেলের ব্যবস্থা করা হলে বহু শিক্ষার্থী উপকৃত হবেন।
এই চার দফা দাবিকে সামনে রেখেই এদিনের ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টিএসইউ। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দপ্তরের আধিকারিকরা দাবিগুলি নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সেই আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।



















