আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের অধীন আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে নিরাপত্তা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে ৭৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটারদের নিরাপত্তা, প্রচার সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ নিয়ে বুধবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বৈঠকটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশক, আইজি (ল অ্যান্ড অর্ডার), বিভিন্ন জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপাররা অংশ নেন।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রচারপর্বে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে, ভোটগ্রহণের সময় এবং ভোটগ্রহণের পরেও সিআরপিএফ জওয়ানদের মোতায়েন রাখা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় নির্বাচন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত এরিয়া ডমিনেশন অভিযান এবং ফ্ল্যাগ মার্চ করা হচ্ছে।
জেলা শাসক, কালেক্টর ও পুলিশ সুপারদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যাতে কোনও ধরনের ভয় বা হুমকি ছাড়াই ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণের দিন অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে সময়মতো যাতায়াতের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা থেকে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে এবং ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগে বাধ্যতামূলক ৪৮ ঘণ্টার নীরবতা পর্ব কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে কোনও ধরনের নির্বাচনী প্রচার বা ভোট চাওয়া যাবে না। ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এমন নির্বাচনী বিষয়বস্তু টেলিভিশন, রেডিও, কেবল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা মুদ্রিত সংবাদমাধ্যমে ভোটগ্রহণ এলাকার মধ্যে প্রচার করা যাবে না।
এই সময়ে সংবাদমাধ্যমগুলিকেও বিতর্ক, আলোচনা, মতামত, মতামত সমীক্ষা বা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনও বিষয় প্রচার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিধিনিষেধ লঙ্ঘন হলে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এছাড়া মাইক বা লাউডস্পিকার ব্যবহারের সময়সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছে কমিশন। সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্তই লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে। অতিরিক্ত শব্দের কারণে শিশু, প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ মৌলিক পরিকাঠামো নিশ্চিত করার জন্য জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পৃথক একটি বৈঠকে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের জন্য নিযুক্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব ও ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছতা ও অভিন্নতা বজায় রাখা এবং নির্বাচনী বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করবেন পর্যবেক্ষকরা। পরে তাঁরা তাঁদের নিজ নিজ এলাকার নির্বাচন সংক্রান্ত রিপোর্ট কমিশনের কাছে জমা দেবেন।



















