আগরতলা, ১৫ সেপ্টেম্বর: বিভিন্ন মণ্ডল এলাকায় নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দল এবং মণ্ডল নেতৃত্বের নির্দেশ কর্মী-সমর্থকদের একাংশ না মানার অভিযোগ নিয়ে এবার মুখ খুললেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায়। মঙ্গলবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি দলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
অভিষেক দেবরায় জানান, ভারতীয় জনতা পার্টিতে প্রতি তিন বছর অন্তর সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটিতে কারও নাম না থাকলেও তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে—এমনটা নয়। তাঁর কথায়, বিজেপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যার সঙ্গে মানুষ ক্রমাগত যুক্ত হচ্ছেন এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে বিভিন্ন স্তরে তাঁদের ভূমিকা রয়েছে।
মণ্ডলস্তরে কমিটি গঠন নিয়ে তিনি জানান, বিভিন্ন মণ্ডল এলাকায় যে সাংগঠনিক কমিটিগুলি গঠন করা হয়, সেগুলির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্তর থেকেও নজরদারি ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। এরপরও কোথাও কোনো সমস্যা বা অসন্তোষ থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, কেউ যদি দলবিরোধী কোনো কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে দল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একইসঙ্গে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনের মূল বিষয় ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিজেপি। এর মধ্যে অঙ্কন প্রতিযোগিতা, ‘নমো সেবা’, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রভিত্তিক কর্মসূচি, ‘সেবা’ মশাল নিয়ে পদযাত্রা-সহ একাধিক কর্মসূচি রয়েছে বলে জানান প্রদেশ বিজেপি সভাপতি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক দেবরায় বলেন, তিনি দীর্ঘ সময় মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালের আগে দেশে একের পর এক দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে এসেছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেশ আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং একটি নতুন উজ্জীবিত ভারত গড়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গৃহীত মাসব্যাপী কর্মসূচিগুলি জনসম্পৃক্ততা ও জনজাগরণের রূপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ বিজেপি সভাপতির পাশাপাশি জনজাতি মোর্চার নেতৃত্ব বিপিন দেববর্মাও উপস্থিত ছিলেন।



















