কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বালি এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে একাধিক কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)-র (সিপিআই(এম)) পার্টি অফিসে দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। বুধবার সিপিআই(এম) নেতারা এই অভিযোগ করেন। তবে ঘটনায় বিজেপির ভূমিকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে গেরুয়া শিবির।
সিপিআই(এম)-এর অভিযোগ, হামলার পিছনে শাসক দল বিজেপির ভূমিকা রয়েছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই।
সিপিআই(এম) নেতাদের দাবি, পাঁচাননতলা রোডের দেওয়ানগাজি জোনাল পার্টি অফিস এবং বেলুড় স্টেশন রোডের আরও একটি পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়াও এলাকার আরও কয়েকটি দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও তছনছ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সিপিআই(এম)-এর এক নেতা জানান, রাত প্রায় ১১টা নাগাদ মোটরবাইকে করে একদল দুষ্কৃতী এসে হামলা চালায়। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে ভাঙচুর চলে বলে তাঁর দাবি।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে বালি খালের কাছে পাঁচাননতলায় সিপিআই(এম)-এর যুব সংগঠন ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (ডিওয়াইএফআই)-এর একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে দলের নেত্রী দীপ্সিতা ধর-সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। সিপিআই(এম) নেতাদের দাবি, কর্মসূচির পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে রাতে দলীয় কার্যালয়গুলিতে হামলার ঘটনা ঘটে।
সিপিআই(এম) জেলা কমিটির সদস্য শঙ্কর মৈত্র অভিযোগ করেন, রাত ১১টার দিকে স্থানীয় বিজেপি নেতারা বাইকে করে এসে চারটি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। একটি কার্যালয়ে তালাও লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভাঙচুরের পর দলীয় তরফে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা রাজা গোস্বামী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা গণেশ পুজো এবং খিচুড়ি বিতরণের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এর মধ্যে হাওড়া স্টেশনে যুব মোর্চার একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকেই তিনি বাম দলের কার্যালয়ে হামলার খবর জানতে পারেন বলে দাবি করেন। বিজেপির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই বলেও তিনি জানান।
এর আগে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতেও একটি সিপিআই(এম) কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায়ও সিপিআই(এম) বিজেপি-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল। দলের অভিযোগ ছিল, জলপাইগুড়ির ডিবিসি রোডে অবস্থিত জেলা পার্টি অফিসের গেটে লাঠি দিয়ে ভাঙচুর চালানোর পর কার্যালয়ের সামনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ওই ঘটনার পর সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।
—আইএএনএস



















