আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: সরকারের সমালোচনা এবং জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়। সম্প্রতি ত্রিপুরার কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ ও কেবল চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।
তিনি বলেন, সরকারের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং সরকারের সমালোচনা করা প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। একইভাবে জনগণের সমস্যা ও সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা তুলে ধরার অধিকার সংবাদমাধ্যমেরও রয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, বিদ্যুৎ পরিষেবার সমস্যা, রেশনে চাল, ডাল ও চিনি না পাওয়া, চাকরির বিজ্ঞপ্তি বারবার প্রকাশিত হলেও নিয়োগ না হওয়া, টেট বা টিআরবিটি পরীক্ষা নেওয়ার পর নিয়োগপত্র না দেওয়ার মতো বিষয় নিয়ে কোনও সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন তুললেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ত্রিপুরায় কয়েকটি কেবল চ্যানেলের ক্ষেত্রেও সম্প্রচার বন্ধ বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা ঘটেছে। সরকারের সঙ্গে কোনও সংবাদমাধ্যমের মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই কারণে কোনও সংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া বা কেবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে তা বাকস্বাধীনতার উপর আঘাত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের আমলে সংবাদপত্রের উপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি কিছু সংবাদমাধ্যমকে সরকারি বিজ্ঞাপন থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও তোলেন। তাঁর বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের কাজ সরকার কিংবা বিরোধী দলের প্রশংসা করা নয়, বরং তথ্য ও সত্যের ভিত্তিতে জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরা।
এদিন রাজ্য সরকারের দুর্নীতি নিয়েও সরব হন জিতেন্দ্র চৌধুরী। মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বললেও বাস্তবে দুর্নীতি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পিডব্লিউডি, স্বাস্থ্য, পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁর দাবি, উচ্চপদস্থ আধিকারিক থেকে শুরু করে নিচুতলার কর্মীদের একাংশ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে এবং এর ফলে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।



















