তিরুবনন্তপুরম, ১৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): তফসিলি উপজাতি (এসটি) সম্প্রদায়ের উদ্যোগপতিদের নেতৃত্বাধীন স্টার্টআপ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে চিহ্নিত করা, ইনকিউবেট করা, পরামর্শ দেওয়া এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি চালু করেছে কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রক। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কেরল স্টার্টআপ মিশন (কেএসইউএম)।
কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী জুয়াল ওরাম জানান, আদিবাসী যুবসমাজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এবং অন্যদিকে কর্মপ্রার্থী হিসেবে গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ। এসটি সম্প্রদায়ের উদ্ভাবক ও উদ্যোগপতিদের কাছে পৌঁছনো এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপর কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দুর্গাদাস উইকে বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে উৎসাহিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ এই উদ্যোগ।
এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১,০০০ জন এসটি উদ্যোগপতির কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১০০ জনকে ‘ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড ফর শিডিউলড ট্রাইবস’ (ভিসিএফ-এসটি)-এর আওতায় অর্থায়ন ও ইনকিউবেশনের সুযোগ দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে কেএসইউএম-সহ ১০টি সংস্থার সঙ্গে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে মন্ত্রক।
কেরলের এসটি-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগগুলিকে দক্ষতা বৃদ্ধি, মেন্টরশিপ, বাজারের সঙ্গে সংযোগ এবং বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কাঠামোবদ্ধ সহায়তা দেবে কেএসইউএম। কেরল সরকারের উদ্যোগপতি উন্নয়ন ও ইনকিউবেশনের নোডাল সংস্থা হিসেবে কাজ করে কেরল স্টার্টআপ মিশন।
ভিসিএফ-এসটি প্রকল্পের অধীনে যেসব সংস্থায় এসটি উদ্যোগপতিদের কমপক্ষে ৫১ শতাংশ শেয়ারহোল্ডিং এবং পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তারা আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবে। এই মালিকানা কাঠামো ছয় মাস বজায় রাখা থাকলে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে। ৫০ লক্ষ টাকার বেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ৫১ শতাংশ এসটি শেয়ারহোল্ডিং ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ কমপক্ষে ১২ মাস বজায় রাখার শর্ত রয়েছে।
প্রকল্পে সন্তোষজনক অগ্রগতির ভিত্তিতে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা করে তিন বছর পর্যন্ত ইনকিউবেশন সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রকের সচিব রঞ্জনা চোপড়া বলেন, উদ্ভাবন আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে নতুন বিষয় নয়। তাঁদের ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থার মধ্যে উল্লেখযোগ্য জ্ঞান ও উদ্ভাবনী ধারণা রয়েছে, যা অনেক সময় আধুনিক বিশ্বের কাছে পৌঁছয়নি। এই উদ্ভাবনকে মূলধারায় নিয়ে আসার জন্য একটি সুসংগঠিত কৌশল প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের সামগ্রিক স্টার্টআপ সংখ্যার সঙ্গে এসটি-নেতৃত্বাধীন স্টার্টআপের ব্যবধান কমানো এবং আরও বেশি আদিবাসী উদ্যোগপতিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াকে এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কেরলের ইলেকট্রনিক্স ও আইটি দফতরের বিশেষ সচিব সীরাম সম্ভাসিব রাও বলেন, এই সমঝোতা স্মারক এসটি সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আদিবাসী যুবকদের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী প্রকল্পকে উৎসাহিত করবে।
কেএসইউএম-এর সিইও অনুপ আম্বিকা বলেন, কেরলের স্টার্টআপ পরিবেশ এসটি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্ভাবননির্ভর উদ্যোগ চিহ্নিত করা এবং সেগুলিকে বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত।
























