নয়াদিল্লি, ১৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): হিংসা-বিধ্বস্ত মণিপুরের বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে ২৫টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল সুপ্রিম কোর্ট। মৃত্যুর কারণ, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, রিপোর্টে তা উল্লেখ করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও ভি. মোহনার বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দেয়। ত্রাণশিবিরে বসবাসকারী অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের মৃত্যু এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে আদালতে পেশ করা তথ্যের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ২৫টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা সম্পর্কে মুখ্যসচিবকে রিপোর্ট দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে সহায়ক অন্যান্য নথিও আদালতে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাও জানাতে হবে।
ত্রাণশিবিরে থাকা বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে মণিপুর সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তারও ব্যাখ্যা চেয়েছে শীর্ষ আদালত।
আটটি জেলায় অবস্থিত ত্রাণশিবিরগুলিতে মৃত্যুর বিষয়ে একটি রিপোর্ট আদালতের নজরে আসার পর বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, কেন মাত্র ২০টি ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর সব ঘটনায় ময়নাতদন্ত না করার কারণও রাজ্য সরকারকে জানাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে মাত্র ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তার ভিত্তিও জানতে চেয়েছে আদালত। কীভাবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়েও রাজ্যকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
ত্রাণশিবিরে বসবাসকারী মানুষদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিশ্চিত করার জন্যও কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
মণিপুর লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিকে বিষয়টি অবিলম্বে খতিয়ে দেখে সমস্ত অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ এবং ইতিমধ্যে এফআইআর দায়ের হওয়া মামলাগুলির তদন্ত দ্রুত শেষ করার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি গীতা মিত্তলের নেতৃত্বাধীন কমিটির রিপোর্ট বিবেচনার পর এই নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। ২০২৩ সালের মণিপুর হিংসার জেরে তৈরি মানবিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মহিলা ও শিশু, ত্রাণশিবির, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্ট ওই কমিটি গঠন করেছিল।
শুনানিতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্যা ভাটি মণিপুর হিংসা সংক্রান্ত মামলাগুলির তদন্তের অগ্রগতির তথ্যও প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের সামনে তুলে ধরেন। কেন্দ্রের আইন আধিকারিক জানান, আটটি জেলায় ৪২টি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। ৩০২টি মামলায় চার্জশিট জমা পড়েছে, ১,৫৮৩টি মামলায় ক্লোজার রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে এবং ১,১৩৫টি মামলার তদন্ত এখনও চলছে।
২০২৩ সালের হিংসার সময় যৌন হিংসার অভিযোগ-সহ কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)-র তদন্তাধীন মামলাগুলির অগ্রগতির বিষয়েও আদালতকে জানানো হয়।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট যৌন হিংসা সংক্রান্ত ১১টি মামলা সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে এবং অসমে ওই মামলাগুলির বিচার করার নির্দেশ দিয়েছিল। একই সঙ্গে মণিপুর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। হিংসা সংক্রান্ত মামলাগুলির তদন্ত পর্যবেক্ষণের জন্য প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক দত্তাত্রেয় পাডসালগিকরকেও নিয়োগ করেছিল শীর্ষ আদালত।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যৌন হিংসার মামলাগুলির তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সিবিআইয়ের কাছে স্ট্যাটাস রিপোর্ট চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে মণিপুর ও গৌহাটি হাইকোর্টের মধ্যে সমন্বয়ের একটি ব্যবস্থার কথাও তখন বিবেচনা করা হয়েছিল। ভুক্তভোগী ও সাক্ষীরা যাতে তাঁদের বক্তব্য জানানোর ক্ষেত্রে ‘মুক্ত ও নির্ভীক পরিবেশ’ পান, তার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছিল আদালত।
—আইএএনএস
























