নয়াদিল্লি, ১৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২,০০০ টাকার বেশি নির্দিষ্ট ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) লেনদেনের ক্ষেত্রে সম্প্রতি ঘোষিত ০.৪ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কংগ্রেস সাংসদরা। তাঁদের দাবি, সংসদীয় অর্থ বিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে এই প্রস্তাব নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।
ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই) ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই পেমেন্টের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ এমডিআর চালুর কথা জানিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদদের দাবি, এই চার্জের অধিকাংশটাই ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক ও পেমেন্ট প্রসেসরদের দিতে হবে।
কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ ‘এক্স’-এ দাবি করেন, প্রস্তাবিত ইউপিআই চার্জ নিয়ে সংসদীয় অর্থ বিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়নি। তাঁর আরও দাবি, অর্থ মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে UPI কর সংক্রান্ত কোনও নির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেননি।
গগৈ বলেন, কমিটির সদস্যরা এমডিআর চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে তাঁর দাবি, আলোচনার সময় সরকারি প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে নির্দিষ্ট বা সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক ইউপিআই কর নীতি ছোট ব্যবসায়ী, বিক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের উপর চাপ তৈরি করবে এবং বড় মার্কিন সংস্থাগুলিকে সুবিধা দেবে।
সংসদীয় অর্থ বিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে কংগ্রেসের পাঁচ সাংসদ ছিলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম, মনীশ তিওয়ারি, গৌরব গগৈ, কিশোরীলাল এবং কে. গোপীনাথ।
গৌরব গগৈয়ের বক্তব্যকে সমর্থন করে কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি বলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যবিবরণী বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত এবং তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।
তিওয়ারিরও দাবি, কমিটির সামনে ইউপিআই লেনদেনে নতুন এমডিআর সংক্রান্ত কোনও নির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়নি। এমনকি প্রস্তাবিত হার, ছাড় বা ছাড়ের বিষয়গুলিও কমিটির সামনে বিস্তারিতভাবে রাখা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এমডিআর চালুর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নিয়েও কমিটির সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে জানান তিওয়ারি। তাঁর বক্তব্য, কমিটির বিভিন্ন বৈঠকে এমডিআর চালুর নীতিগত ও ধারণাগত প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
এছাড়া কমিটির কোনও কোনও সদস্য প্রস্তাবিত ব্যবস্থাকে সমর্থন করেছিলেন—এমন দাবি নিয়েও আপত্তি জানান তিওয়ারি। তাঁর মতে, সংসদীয় কমিটির গোপনীয় কার্যপ্রক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের বক্তব্য সঠিক নয়।
বিষয়টি নিয়ে আরও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
_______



















