জয়পুর, ১৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাজস্থানের জয়পুরের ঐতিহাসিক ত্রিপোলিয়া বাজারে বৃহস্পতিবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২০টিরও বেশি দোকান ও গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ সেঠি কমপ্লেক্স মানিহারি কাটলা, যা পুরোহিত জি কা কাটলা নামেও পরিচিত, সেখানে আগুন লাগে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলির মধ্যে পোশাকের গুদাম, প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান এবং চুড়ির দোকান রয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় তলায় একটি পোশাকের দোকানের বাইরে কার্টনে রাখা সামগ্রী থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কালো ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা সুভাষ চৌক থেকে চাঁদপোল এলাকার দিক থেকেও দেখা যায়।
ঘটনাস্থলের কাছেই মানক চৌক থানা। পুলিশকর্মীরা ধোঁয়া দেখতে পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকল বিভাগকে খবর দেন। সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ পাঁচটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
দ্বিতীয় তলায় থাকা দোকান ও গুদামগুলিতে প্রচুর দাহ্য সামগ্রী থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। তাছাড়া এলাকার সরু জায়গার কারণে দমকলের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ব্যবসায়ীরা নিজেদের পণ্য নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। কয়েকজন ব্যবসায়ীকে বালতি করে জল এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করতেও দেখা যায়। ঘটনাস্থলে প্রচুর ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষ ভিড় জমান।
আগুন লাগার জায়গার উপরের তলায় একটি রেস্তোরাঁ চলার অভিযোগ নিয়েও ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, রেস্তোরাঁটি বেআইনিভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। তাঁদের দাবি, মকর সংক্রান্তির সময়ও ওই রেস্তোরাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে অভিযোগ ওঠা একটি অগ্নিকাণ্ড ছাদে ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর মানক চৌক থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, ভবনটির নির্মাতা দমকল বিভাগের কাছ থেকে ফায়ার এনওসি নিয়েছিলেন। তবে ভবনে থাকা অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামগুলি সঠিকভাবে কাজ করছিল না বলেও তাঁরা দাবি করেছেন।
তবে ব্যবসায়ীদের এই অভিযোগগুলি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
আগুন লাগার সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। বর্তমানে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণ ও সম্পূর্ণভাবে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছেন।
–আইএএনএস



















