আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর দেবশিল্পী ভগবান বিশ্বকর্মার পূজা। সারাদেশের পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হবে বিশ্বকর্মা পূজা। পূজাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ব্যস্ততা বেড়েছে আগরতলা শহরের মৃৎশিল্পীদের। তবে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ততা থাকলেও আগের তুলনায় বিক্রি কম হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন তাঁরা।
বিশ্বকর্মা পূজার আগে বটতলা এলাকার মৃৎশিল্পীদের এখন ব্যস্ত সময় কাটছে। দিন-রাত এক করে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন আকার ও নকশার বিশ্বকর্মার প্রতিমা। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ছোট থেকে বড়—বিভিন্ন মাপের প্রতিমা তৈরি করছেন শিল্পীরা।
তবে মৃৎশিল্পীদের কথায়, বর্তমানে তাঁদের ব্যবসার পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল। প্রতিমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কাঁচামালের বেশ কিছু অংশ বাইরের রাজ্য থেকে কিনে আনতে হয়। ফলে পরিবহন খরচসহ উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। অন্যদিকে বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা ও বিক্রি আগের মতো না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
এক মৃৎশিল্পী বলেন, “আগের মতো ব্যবসা নেই। তারপরও এই কাজ ছেড়ে দেওয়ার উপায় নেই। আমাদের এই কাজের উপরই সংসার চলে। তাই যত কষ্টই হোক, কাজ করে যেতে হবে।”
বিশ্বকর্মা পূজার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই শেষ মুহূর্তের বিক্রি বাড়বে বলে আশাবাদী মৃৎশিল্পীরা। তাঁদের আশা, পূজার আগের এক-দুই দিনে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লে কিছুটা হলেও ক্ষতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ এবং বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই ঐতিহ্যবাহী পেশা টিকিয়ে রাখা নিয়ে চিন্তিত মৃৎশিল্পীরা। তাঁদের দাবি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সহায়তা মিললে ত্রিপুরার এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।



















