নয়াদিল্লি, ১৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার দাবি করেছেন, জি২০-র মধ্যে ভারতই একমাত্র দেশ, যারা প্যারিস সিওপি২১ সম্মেলনে করা সমস্ত প্রতিশ্রুতি নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ করেছে। পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় ভারতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং অন্যান্য পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।
‘দ্য ফিউচার অফ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট ডায়নামিক্স’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করে মোদি বলেন, ভারতের পরিবেশ সুরক্ষার ঐতিহ্যগত মূল্যবোধকে আধুনিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করেই জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সৌরশক্তি, অ-জীবাশ্ম জ্বালানি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ‘ওয়ান সান, ওয়ান ওয়ার্ল্ড, ওয়ান গ্রিড’, আন্তর্জাতিক সৌর জোট, সিডিআরআই, গ্লোবাল বায়োফুয়েলস অ্যালায়েন্স, ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স এবং ‘মিশন লাইফ’-এর মতো উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
সৌরশক্তির প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রায় ১২ বছর আগে ভারতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল প্রায় ২ গিগাওয়াট। বর্তমানে তা ১৬০ গিগাওয়াট ছাড়িয়েছে। ‘পিএম সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনা’র আওতায় ইতিমধ্যেই ৫০ লক্ষেরও বেশি বাড়িতে ছাদে সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রতিটি পরিবারকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, পিএম-কুসুম প্রকল্পের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ কৃষকের জমিতে সৌরচালিত পাম্প বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এলইডি বাল্ব ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাপকভাবে এলইডি বাল্ব ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়েছে। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র সৌরশক্তির মাধ্যমে ভারত প্রায় ২০ কোটি টন কার্বন নিঃসরণ কমাতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১২ বছরে ভারতের বায়ুশক্তি উৎপাদন ক্ষমতা তিন গুণ বেড়েছে এবং জলবিদ্যুৎ ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন বাড়ানোর কাজও এগিয়ে চলেছে।
পরিবেশবান্ধব পরিবহণের ক্ষেত্রেও ভারতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন মোদি। তিনি জানান, দেশে পরিচ্ছন্ন পরিবহণ এবং গ্রিন হাইড্রোজেনের ব্যবহার বাড়ছে। সম্প্রতি ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের সূচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১২ বছরে দেশে ইভির সংখ্যা প্রায় ৯৫০ গুণ বেড়েছে। ২০১৪ সালের আগে বছরে ভারতে ৩ হাজারেরও কম ইভি বিক্রি হলেও গত বছর প্রায় ২৫ লক্ষ ইভি বিক্রি হয়েছে বলে তিনি জানান।
জাতীয় সড়কে ফাস্ট্যাগ ব্যবস্থার ফলে টোল প্লাজায় অপেক্ষার সময় কমেছে এবং এর ফলে জ্বালানি অপচয়ও কমেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। মেট্রো রেল ব্যবস্থার সম্প্রসারণের কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের আগে পাঁচটি শহরে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মেট্রো নেটওয়ার্ক ছিল। বর্তমানে ২০টিরও বেশি শহরে মেট্রো পরিষেবা রয়েছে এবং দেশের মেট্রো নেটওয়ার্ক ১,০০০ কিলোমিটার ছাড়িয়েছে।
প্রাকৃতিক কৃষি ও জলবায়ু সহনশীল কৃষির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান মোদি। জাতীয় প্রাকৃতিক কৃষি মিশনের অধীনে প্রায় ১২.৫ লক্ষ হেক্টর জমি জুড়ে ২৪ হাজার ক্লাস্টার গড়ে তোলা হয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষিকে খাপ খাওয়াতে প্রায় ৩ হাজার জলবায়ু-সহনশীল ফসলের জাত তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে কোটি কোটি গাছ লাগানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সঙ্গে সরকারি নথিতেও ভারতের কিছু জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জনের কথা উল্লেখ রয়েছে। পিআইবি-র নথি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৫০ শতাংশ অ-জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল এবং ভারত তা সময়ের আগেই অর্জনের পথে রয়েছে।


















