আগরতলা, ১৯ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে ত্রিপুরার এক মহিলার নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তার জন্য জাতীয় স্তরের এক অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়ার মহেশপুরের বাসিন্দা বুল্টি দেবনাথ দত্তের ব্যবসায়িক সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মুদ্রা ঋণ শুধু প্রচলিত ব্যবসার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, এর মাধ্যমে নতুন ধরনের উদ্যোগও গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার উপভোক্তাদের সঙ্গে জাতীয় স্তরের এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বুল্টি দেবনাথ দত্তের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। বুল্টি জানান, ২০১৭ সালে তিনি ও তাঁর স্বামী মিলে সিমেন্ট ও রড-ভিত্তিক নির্মাণসামগ্রী তৈরির কারখানা শুরু করেন।
ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যেতে ২০১৯ সালে তিনি ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে প্রথমে ৩ লক্ষ টাকা ঋণ নেন। সেই ঋণ পরিশোধ করার পর ২০২৩ সালে আরও ৩ লক্ষ টাকা ঋণ নেন। ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকায় ২০২৪ সালে তিনি ফের ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের দ্বারস্থ হন এবং প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার আওতায় ৭ লক্ষ টাকার ঋণ পান।
বুল্টি জানান, এই অতিরিক্ত মূলধনের ফলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত পাঁচজন কর্মীকে কাজে নিয়োগ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ব্যবসার প্রয়োজনে একটি গাড়িও কিনেছেন। বর্তমানে তিনি নিজেই সেই গাড়িতে করে আরসিসি পিলার, ফিল্টার, ভেন্টিলেটর-সহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেন। ঋষ্যমুখ ব্লকের ১০ থেকে ১২টি পঞ্চায়েত এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্প, যার মধ্যে মনরেগা-র কাজও রয়েছে, সেখানে তাঁর তৈরি সামগ্রী সরবরাহ করা হয়।
বর্তমানে তিনি একক মা হিসেবে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি দুই মেয়ে ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। নিজের ব্যবসায়িক যাত্রায় ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক এবং ভারত সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বুল্টি।
বুল্টির উদাহরণ তুলে ধরে নির্মলা সীতারামন বলেন, মুদ্রা ঋণ শুধুমাত্র প্রচলিত ধরনের ব্যবসার জন্য নয়। মহিলাদের নতুন ও ভিন্নধর্মী উদ্যোগ গড়ে তুলতেও এই ঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের দিকে তাকান। মানুষের পাশে থেকে ব্যাংকটি কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী ভাবনার মাধ্যমে ঋণ সহায়তা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বুল্টির প্রথম ঋণ গ্রহণ থেকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, গাড়ি কেনা এবং নিজে বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করার পুরো যাত্রাপথও তুলে ধরেন তিনি।
সীতারামন আরও বলেন, সাধারণভাবে ব্যাংকগুলির ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা থাকে। তবে আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংকগুলির মাধ্যমে কীভাবে ঋণকে তৃণমূল স্তরের উদ্যোগ, কর্মসংস্থান এবং জীবিকা তৈরির কাজে ব্যবহার করা যায়, তার উদাহরণ তৈরি হচ্ছে।

















