কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নাগাল্যান্ডের একদল পড়ুয়া ১০ দিনের ‘সীমা দর্শন সফরে’ রওনা হয়েছে। সেনাবাহিনীর স্পিয়ার কোরের অধীন অসম রাইফেলস ‘অপারেশন সদ্ভাবনা’র আওতায় এই সফরের আয়োজন করেছে। দুর্গম অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মকে দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
‘অপারেশন সদ্ভাবনা’র আওতায় এই ধরনের সফরের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়ারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে ভারতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষায় তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কেও জানার সুযোগ পায় তারা।
এবারের দলে নাগাল্যান্ডের কোহিমার রুসোমা সরকারি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন পড়ুয়া এবং দুই শিক্ষক রয়েছেন। তাঁরা গুয়াহাটি, তেঙ্গা, তাওয়াং এবং তেজপুর সফর করবেন। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর কোহিমায় ফিরে আসার কথা রয়েছে তাঁদের।
স্পিয়ার কোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ জানিয়েছে, এই সফর তরুণদের ভারতের সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য, সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং দেশের নিরাপত্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা দেবে।
অরুণাচল প্রদেশের তেঙ্গা ও তাওয়াং ভারতের উত্তর সীমান্তের প্রতিরক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। একই সঙ্গে এই দুই অঞ্চলের নিজস্ব সমৃদ্ধ সংস্কৃতিও রয়েছে। অন্যদিকে, অসমের তেজপুরও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সেনাবাহিনীর চতুর্থ কোর বা ‘গজরাজ কোর’-এর সদর দফতর রয়েছে। পাশাপাশি, তেজপুরে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে সু-৩০ এমকেআই-এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালিত হয়।
চলতি বছরে নাগাল্যান্ডের তরুণদের জন্য এটি এ ধরনের দ্বিতীয় সফর। এর আগে মার্চ মাসে নাগাল্যান্ডের ওখা জেলার ভান্ডারি এলাকার ২০ জন পড়ুয়া এবং তিন শিক্ষক গুয়াহাটি ও কলকাতা সফর করেন। সেখানে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলি পরিদর্শন করেন।
২০২৫ সালে নাগাল্যান্ডের কিফিরে জেলার ইয়াংফি এলাকার পিএম শ্রী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও শিক্ষকদের দিল্লি ও আগ্রা সফরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সফরে তাঁরা লালকেল্লা ও তাজমহলের মতো ঐতিহাসিক স্থাপত্য পরিদর্শনের পাশাপাশি জাতীয় যুদ্ধ জাদুঘরে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এবারের সফরে সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে পড়ুয়াদের মতবিনিময়েরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের যোগাযোগ জাতীয় সংহতি জোরদার করার পাশাপাশি তরুণদের ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
—আইএএনএস


















