ইন্দোর, ১৯ সেপ্টেম্বর(আইএএনএস) : শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষা পদ্ধতি এবং যুব সমাজকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ‘ছাত্রদের গুঞ্জন’ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দেশের শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টোটা ঘটছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকেই পিছনের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগে আইআইটি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দিকে জোর দেওয়া হয়েছিল। এখন সেই ব্যবস্থাই উল্টো দিকে এগোচ্ছে।
বিভিন্ন পরিসংখ্যান-সহ স্লাইড দেখিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ২০১৪ সালের আগে কেন্দ্রীয় বাজেটের ৪.৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হত। বর্তমানে তা কমে ২.৬ শতাংশ হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৭.৭ লক্ষ কোটি টাকা বিলিয়নিয়ারদের হাতে চলে গিয়েছে।
ছাত্রদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছাত্ররা প্রশ্ন করে এবং কৌতূহলী থাকে। অন্যদিকে, ‘অন্ধভক্তরা’ নিজেদের জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, ভালোবাসার বদলে ঘৃণা ছড়ায়, বিনয়ের পরিবর্তে অহংকার দেখায় এবং সততার অভাব থাকে।
পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর বক্তব্য, কিছু পরীক্ষার্থী ভুল করলেও গোটা ব্যবস্থার প্রতি তাঁদের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এ সময় সভায় উপস্থিত ছাত্ররা চিৎকার করে বলেন, “স্যর, আমরা ব্যবস্থার কাছে হেরে গিয়েছি।”
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ব্যবস্থার মধ্যে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করছেন। তিনি বলেন, পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা দুর্নীতিগ্রস্ত হলে তার ক্ষতি শেষ পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদেরই বহন করতে হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক এমবিবিএস পড়ুয়া দাবি করেন, গত আট বছর ধরে বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রিলিমিনারি, মেইনস এবং ইন্টারভিউ পর্ব শেষ হওয়ার পরও ১৩ শতাংশ পদ আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় চার লক্ষ যুবক এবং সরাসরি ৮৭ হাজার প্রার্থী এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফল প্রকাশে দেরির ক্ষেত্রে বারবার আদালতে মামলা চলার কথা বলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অনেক প্রার্থী বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পার করে ফেলেছেন বলেও দাবি করা হয়।
রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষা কোনও বিলাসিতা নয়, এটি প্রত্যেক ছাত্রের অধিকার। তাঁর কথায়, একটি শিশুকে কিন্ডারগার্টেন ও মিড-ডে মিল থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ এবং শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।
তিনি বলেন, ছাত্ররাই দেশের ভিত্তি। তাঁদের শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
ইন্দোরের এই কর্মসূচির মূল ভাবনা ছিল ‘ব্যবস্থা বনাম ছাত্র’। রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের যুব সমাজ তাঁদের ভবিষ্যতের উপর ব্যবস্থার প্রভাবের কথা তুলে ধরবে।
‘ছাত্রদের গুঞ্জন’ কর্মসূচির এটি একটি পর্ব। এর আগে কোটা, দেরাদুন এবং পুণেতেও এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।



















