পাটনা, ১৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): জনতা দল (ইউনাইটেড)-এ কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা মতবিরোধ নেই বলে স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা দলের প্রবীণ নেতা রাজীব রঞ্জন সিং ওরফে লালন সিং। শুক্রবার পাটনায় দলের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত জেডিইউ বিধায়ক দলের বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতি ঘিরে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তাও খারিজ করেছেন তিনি।
শনিবার পাটনা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে লালন সিং বলেন, তিনি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গুজরাটে ছিলেন এবং পাটনার বৈঠক সম্পর্কে তিনি জানতেন না। তাঁর কথায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশান্ত কুমার তাঁকে ফোন করেছিলেন এবং পরে তিনি দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি সঞ্জয় ঝার সঙ্গেও কথা বলেন।
লালন সিং জানান, বেশ কয়েকজন বিধায়কও তাঁকে কর্মসূচি সম্পর্কে ফোন করেছিলেন। পরে সঞ্জয় ঝা তাঁকে জানান, দলের সদ্য নির্বাচিত বিধায়কদের জন্য এটি মূলত একটি ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি ছিল।
জেডিইউতে মতবিরোধের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে লালন সিং বলেন, দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, ঐকমত্য ও পারস্পরিক পরামর্শের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুসরণ করে চলেছে। তিনি বলেন, বিষয়গুলিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় করে দেখানো হচ্ছে এবং দলের মধ্যে কোনও বিভেদ নেই।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৪ সালে নীতীশ কুমার সমতা পার্টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, ঐকমত্য এবং পারস্পরিক আলোচনার নীতিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। তাঁর দাবি, সেই ঐতিহ্য এখনও বজায় রয়েছে এবং দলের সকলেই ঐকমত্যে রয়েছেন।
নিজের অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে লালন সিং বলেন, গুজরাটের কর্মসূচিটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। রাত প্রায় ৯টার দিকে নিশান্ত কুমার তাঁকে ফোন করেন। এরপর সঞ্জয় ঝার সঙ্গেও তাঁর কথা হয়। সঞ্জয় ঝা তাঁকে জানান, এটি সদ্য নির্বাচিত বিধায়কদের জন্য একটি নিয়মিত ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি ছিল।
লালন সিং বলেন, তিনি নিয়মিত সঞ্জয় ঝার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তাই দলের মধ্যে কোনও বিরোধের প্রশ্নই নেই।
তবে শুক্রবারের বৈঠকে প্রায় অর্ধডজন বিধায়ক লালন সিংয়ের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে খবর। দলের একজন প্রবীণ নেতাকে এই কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল বলেও তাঁরা মত প্রকাশ করেন। এরপরই জেডিইউতে সম্ভাব্য মতবিরোধ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। এর আগে সঞ্জয় ঝাও লালন সিংয়ের অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
এদিকে, মোকামা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অনন্ত সিংও শুক্রবার জানিয়েছিলেন যে তিনি ওই বৈঠক সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
জেডিইউ এমএলসি নীরজ কুমারকে নিয়ে অনন্ত সিংয়ের বিরোধিতা এবং বিধান পরিষদ নির্বাচনে নীরজ কুমারের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে লালন সিং বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির এবং এ বিষয়ে তাঁদেরই সরাসরি প্রশ্ন করা উচিত।
অনন্ত সিং ও নীরজ কুমারের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই লালন সিংয়ের এই মন্তব্য সামনে এল। পাটনা গ্র্যাজুয়েট কেন্দ্রের নির্বাচনে নীরজ কুমারের প্রার্থিতার বিরোধিতা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন অনন্ত সিং।
—আইএএনএস



















