নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনিয়া, ১৯ সেপ্টেম্বর: ‘নেশামুক্ত যুব অভিযান’-এর আওতায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কলেজের জাতীয় সেবা প্রকল্প ও অভ্যন্তরীণ গুণমান নির্ণায়ক শাখা-এর যৌথ উদ্যোগে এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের সহযোগিতায় শনিবার ‘তারুণ্যের অঙ্গীকার ও স্বাক্ষর অভিযান’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় সংকল্প সমারোহের বিশেষ অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত এই কর্মসূচিটি ‘বিকশিত ভারত-এর জন্য ১০০ সপ্তাহের নাশা মুক্ত যুব অভিযান’-এর অংশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিলোনিয়া পুর পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল চন্দ্র গোপ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর পারিষদ তথা শিক্ষা বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি অনুপম চক্রবর্তী এবং পাবলিক হেলথ কমিটির সভাপতি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক অভিজিৎ চৌধুরী, কলেজের শিক্ষক সংসদের সচিব অধ্যাপক মনীশ প্রসাদ, অধ্যাপক আশীষ কুমার রায়, দক্ষিণ ত্রিপুরা নেশামুক্ত কার্যক্রমের নোডাল অফিসার ডাঃ অলক দাস এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি তথা কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ মনোরঞ্জন দাস।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নেশামুক্ত সমাজ গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধান অতিথি নিখিল চন্দ্র গোপ বলেন, যুবসমাজকে নেশার কবল থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথি অনুপম চক্রবর্তী যুবসমাজের মধ্যে নেশাবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের এই সচেতনতা অভিযানে সক্রিয় ও ধারাবাহিকভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। নেশামুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে স্থানীয় সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
অধ্যাপক অভিজিৎ চৌধুরী নেশামুক্ত যুবসমাজ গঠনে এনএসএস-এর বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং ছাত্রছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। শিক্ষক সংসদের সচিব অধ্যাপক মনীশ প্রসাদ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তুলতে আরও বেশি সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের ওপর জোর দেন।
দক্ষিণ ত্রিপুরা নেশামুক্ত কার্যক্রমের নোডাল অফিসার ডাঃ অলক দাস নেশার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও নেশামুক্ত জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি ছাত্রছাত্রীদের নেশার বিভিন্ন কুফল সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি তথা কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ মনোরঞ্জন দাস বলেন, নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে শুধু প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এর জন্য যুবসমাজের সচেতনতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। ছাত্রছাত্রীরা নেশা থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে নেশামুক্ত রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল নেশামুক্ত থাকার শপথ গ্রহণ ও স্বাক্ষর অভিযান। উপস্থিত অতিথি, কলেজের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, অফিসকর্মী এবং ছাত্রছাত্রীরা নেশামুক্ত যুবসমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শপথবাক্য পাঠ করেন এবং স্বাক্ষর অভিযানে অংশ নেন।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে নেশার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যুবসমাজকে সুস্থ, সুন্দর ও নেশামুক্ত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।



















