নয়াদিল্লি, ২০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন-এর মাধ্যমে বড় সংখ্যায় ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করল কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এই প্রক্রিয়াকে ‘শাহ ইনস্টিগেটেড রিমুভাল’ বলে অভিহিত করে দাবি করেছেন, এটি সংবিধানের উপর আঘাত।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর-এর তৃতীয় পর্যায়ে ১৬টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পর্যায়ে ৩৬.৭৩ কোটিরও বেশি ভোটারের বাড়ি-বাড়ি যাচাইয়ের জন্য ৩.৯৪ লক্ষের বেশি বুথ লেভেল অফিসারকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
জয়রাম রমেশের দাবি, তৃতীয় পর্যায়ের আওতায় থাকা ভোটারদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের নাম ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে অথবা বাদ পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাঁর দাবি, ১২টি রাজ্য ও দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৩৬.০৬ কোটি ভোটারের মধ্যে ৬.১৮ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৫.৪৩ কোটি ভোটারকে নাম বহাল রাখার জন্য অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে।
তাঁর দাবি, প্রথম দুই পর্যায়ের এসআইআর-এও ৭.৮ কোটি নাম বাদ পড়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানগুলি কংগ্রেসের দেওয়া হিসাব; নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর উদ্দেশ্য হিসেবে যোগ্য নাগরিককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না দেওয়া এবং অযোগ্য ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত না করার কথা জানিয়েছে।
রমেশের বক্তব্য অনুযায়ী, দিল্লিতে বাদ পড়া বা বাদ পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ভোটারের সম্মিলিত হার ৫৩.৭৩ শতাংশ, চণ্ডীগড়ে ৫২.৫৮ শতাংশ, তেলঙ্গানায় ৪৮.৯০ শতাংশ, ঝাড়খণ্ডে ৩৯.৫৭ শতাংশ এবং হরিয়ানায় ৩৭.৫ শতাংশ। উত্তরাখণ্ড, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পাঞ্জাবের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন হার উল্লেখ করেন তিনি।
কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা অংশের মানুষের উপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব পড়তে পারে। অধিকাংশ বড় রাজ্যে পুরুষের তুলনায় বেশি মহিলার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রমেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে সম্ভাব্যভাবে বাদ পড়তে পারেন এমন ভোটারদের তালিকা সব রাজ্যে প্রকাশ করার দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, নাগরিকদের উপর নিজেদের ভোটার হিসেবে যোগ্যতা প্রমাণের অতিরিক্ত দায় চাপানো হচ্ছে এবং এমন নথিও চাওয়া হচ্ছে, যা অনেক নাগরিকের কাছে নাও থাকতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর একটি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, যেখানে ভোটার, রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন আধিকারিকরা যুক্ত থাকবেন। তৃতীয় পর্যায়ে বিএলও-দের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির নিযুক্ত বুথ লেভেল এজেন্টদেরও প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এসআইআর-এর আওতায় রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ওড়িশা, পাঞ্জাব, সিকিম, ত্রিপুরা, তেলঙ্গানা ও উত্তরাখণ্ড। এছাড়াও দিল্লি, চণ্ডীগড় এবং দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
ভোটাররা নিজেদের নাম ও ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই করতে নির্বাচন কমিশনের ভোটার পরিষেবা পোর্টাল ব্যবহার করতে পারেন।



















