মুম্বই, ১৬ এপ্রিল (আইএএনএস): মহারাষ্ট্র বিধান পরিষদের ৯টি আসনে দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ঘোষণা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই আসনগুলিতে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১২ মে।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমান ৯ জন সদস্যের মেয়াদ ১৩ মে শেষ হচ্ছে, সেই কারণেই এই নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। যাঁদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সঞ্জয় কিশানরাও কেনেকর, নীলম দিবাকর গোরহে, উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে, সন্দীপ দিবাকর জোশি, দাদারাও যাদবরাও কেচে, অমোল রামকৃষ্ণ মিটকারি, রণজিতসিং বিজয়সিং মোহিতে-পাটিল, রাজেশ ধোন্ডিরাম রাঠোর এবং শশিকান্ত জয়বন্তরাও শিন্ডে।
নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ২৩ এপ্রিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩০ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র যাচাই ২ মে এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৪ মে নির্ধারিত হয়েছে।
প্রয়োজন হলে ১২ মে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে এবং সেদিনই বিকেল ৫টা থেকে গণনা শুরু হবে। ১৩ মে-র আগেই পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
সংখ্যার নিরিখে শাসক জোট মহায়ুতি বড়সড় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাদের হাতে প্রায় ২৩৫টি ভোট থাকায় তারা সহজেই ৮টি আসনে জয় পেতে পারে—এর মধ্যে বিজেপি ৫টি, শিবসেনা ২টি এবং এনসিপি ১টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী জোট মহা বিকাশ আঘাড়ি (এমভিএ)-র হাতে রয়েছে মোট ৪৬ জন বিধায়ক (শিবসেনা (ইউবিটি) ২০, কংগ্রেস ১৬, এনসিপি (এসপি) ১০)। কোনও ক্রস-ভোটিং বা ভাঙন না হলে তারা একটি আসন জিততে সক্ষম।
বর্তমান বিধানসভার গঠন অনুযায়ী, জয়ের জন্য একজন প্রার্থীর প্রয়োজন ২৯টি প্রথম পছন্দের ভোট।
রাজনৈতিক মহলে এখন মূল জল্পনা, শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে আবার বিধান পরিষদে লড়বেন কি না। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই একটি আসনের দাবি জানিয়েছে।
২০১৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর মহা বিকাশ আঘাড়ি জোট গঠিত হলে উদ্ধব ঠাকরে মুখ্যমন্ত্রী হন, যদিও তখন তিনি কোনও কক্ষের সদস্য ছিলেন না। সংবিধান অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে তাঁকে বিধানসভার সদস্য হতে হয় এবং ২০২০ সালের মে মাসে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিধান পরিষদে নির্বাচিত হন। তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৩ মে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ঠাকরের পুনর্নির্বাচন অনেকটাই নির্ভর করছে কংগ্রেস ও এনসিপি (এসপি)-র সমর্থনের উপর। যদি এই জোটে ভাঙন বা ক্রস-ভোটিং হয়, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে এবং ফলাফল দ্বিতীয় পছন্দের ভোট গণনার দিকে গড়াতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন উদ্ধব ঠাকরের হাতেই, যা এমভিএ জোটের নির্বাচনী কৌশলে বড় প্রভাব ফেলবে।



















