নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জুন: ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার মধুপুর থানার অন্তর্গত কোনাবন হরিহরদোলা সীমান্ত এলাকায় এক বিশেষভাবে সক্ষম কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে পঞ্চাশোর্ধ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত ব্যক্তি স্থানীয় শাসক দলের এক মহিলা মোর্চা নেত্রীর স্বামী বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় মানুষ অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চন্দন সরকার দীর্ঘদিন ধরে প্রলোভন দেখিয়ে ওই বিশেষভাবে সক্ষম কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। গত দুদিন আগেও সে ওই কিশোরীকে পুনরায় নির্যাতন করার সময় এলাকাবাসীর হাতে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে। অভিযোগ, ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকার কিছু তথাকথিত ‘চুনোপুটি’ নেতা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। নির্যাতিতার পরিবারকে মুখ না খোলার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং গোপনে একটি মীমাংসা সভাও বসানো হয়। সেখানে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার বিনিময়ে মেয়েটির পরিবারকে ১০ হাজার টাকার প্রলোভন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
নেতাদের এই গোপন তৎপরতার মাঝেই মঙ্গলবার সাতসকালে সম্পূর্ণ বিষয়টি পৌঁছায় রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের কান পর্যন্ত। ঘটনা জানতে পেরেই তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মাকে কড়া নির্দেশ দেন।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই সোমবার দুপুরে সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মধুপুর থানার ওসি, এবং বিশালগড় মহিলা থানার পুলিশ বাহিনী টিএসআর জওয়ানদের সাথে নিয়ে হরিহরদোলা বাজারে অভিযানে নামেন। পুলিশ বাহিনীকে এলাকায় ঢুকতে দেখে গ্রেফতারির ভয়ে অভিযুক্তর বাড়ির পাশের একটি ডোবায় (জলাশয়) ঝাঁপ দিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করে। তবে পুলিশ বাহিনী তৎপরতার সাথে ডোবা থেকে তাকে টেনে হিঁচড়ে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ার পর বিশালগড়ের ডিসি এবং সিপাহীজলা জেলার চাইল্ড লাইনের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ও থানায় পৌঁছান। চাইল্ড লাইনের প্রতিনিধিরা নির্যাতিতা কিশোরী ও তার মাকে উদ্ধার করে সুরক্ষার স্বার্থে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যান।
এদিন দুপুরে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সংবাদমাধ্যমকে জানান “ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। পুলিশ ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনার মোড় অন্য দিকে ঘোরাতে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই তৎপর হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকার কিছু অসাধু চক্র। অভিযোগ, অভিযুক্তকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে ওই এলাকার কয়েকজন সীমান্ত পাচারকারী মাস্টারমাইন্ড এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা মধুপুর থানায় গিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। তবে পুলিশ এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে এবং কোনো ধরনের চাপের কাছে মাথা নত করতে নারাজ। প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কিছুটা স্বস্তি পেলেও, অভিযুক্তের যাতে কোনোভাবেই রেহাই না হয়, তার জন্য কড়া নজর রাখছেন স্থানীয়রা।



















