নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ জুলাই: দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা কাকড়াবন–তুলামুড়া–ধূপতলি হয়ে বড়পাথরী সংযোগ সড়কের সংস্কারের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হলেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধূপতলি এলাকায় শুরু হওয়া পথ অবরোধ শুক্রবারও অব্যাহত থাকে। পরে পুলিশ অবরোধ তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয় এবং ৭ থেকে ৮ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। যদিও পরে এলাকাবাসী ফের জড়ো হয়ে পুনরায় অবরোধে বসেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৩৩ কাকড়াবন-শালগড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কাকড়াবন থেকে তুলামুড়া হয়ে ধূপতলি ও বড়পাথরী পর্যন্ত সংযোগকারী সড়কটি প্রায় ১৫ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বর্ষাকালে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
বাসিন্দাদের দাবি, অতীতেও একই দাবিতে পথ অবরোধ করা হয়েছিল। তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করানো হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বারবার আবেদন-নিবেদন করেও কোনও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য দিন-রাত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনকারীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ধূপতলি এলাকায় রাস্তা অবরোধ শুরু হয়। আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক মহিলা অভিযোগ করেন, বেহাল রাস্তার কারণে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় তাঁর অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূর গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তিনি এই ঘটনার জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকেই দায়ী করেন। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের জেরে তাঁর ছেলেকেও পুলিশ আটক করেছে।
অবরোধস্থলে কাকড়াবন ব্লকের বিডিও এবং পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্ষার কারণে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তোলেন, কয়েক মাস আগে যখন কাজের আশ্বাস দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করানো হয়েছিল, তখন তো বর্ষাকাল ছিল না। সেই প্রতিশ্রুতি কেন রক্ষা করা হয়নি, তার সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি বলেই দাবি তাঁদের।
পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিত আশ্বাস দেওয়ার প্রস্তাব এলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁদের সাফ বক্তব্য, রাস্তা সংস্কারের কাজ বাস্তবে শুরু না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।
শুক্রবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদয়পুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর পুলিশ অবরোধ তুলে দেয়। অভিযোগ, এই সময় আন্দোলনকারীদের সরাতে লাঠিচার্জ করা হয় এবং ৭ থেকে ৮ জনকে আটক করা হয়। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
আটকের ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ফের একত্রিত হয়ে পুনরায় অবরোধ শুরু করেন। এর ফলে সড়কের দু’প্রান্তে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করা হোক। অন্যথায় আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।






















