News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ত্রিপুরায় বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, কোনো ছাড় নয়: বিদ্যুৎমন্ত্রী
Image

ত্রিপুরায় বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, কোনো ছাড় নয়: বিদ্যুৎমন্ত্রী

আগরতলা, ৯ জুন: বিদ্যুৎ চুরি করা ব্যক্তি বা আইনভঙ্গকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। আজ স্পষ্টভাবে একথা জানান মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ শুধু একটি পরিষেবা নয়, আধুনিক জীবনের অপরিহার্য অংশ। তাই ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম সাধারণ মানুষের কাছে এই পরিষেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ চুরি  ও বকেয়া বিল না দেওয়া গ্রাহকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হবে। তাঁর প্রশ্ন কেন সৎ গ্রাহকরা অসৎদের বিদ্যুৎ চুরির বোঝা বহন করবেন। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ ও সৎ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম কঠোর অভিযান চালাচ্ছে। গত দুই অর্থবছরে শুধু বকেয়া বিলের কারণে মোট ৭২,৪৩২টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৫০,৪১৮টি সংযোগ বকেয়া বিলের কারণে বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে ২৮,২২৯টি সংযোগ বিল পরিশোধের পর পুনরায় চালু করা হয়। ওই অর্থবছরে এপ্রিল মাসে ৩৯০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও বছরের শেষ দিকে অভিযান আরও তীব্র হয়। জানুয়ারি ২০২৫-এ সর্বোচ্চ ১২,৬৭৫টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ডিসেম্বর মাসে ৮,৪৫৯টি এবং মার্চে ৭,২০৩টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।

অন্যদিকে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও এই অভিযান অব্যাহত থাকে। মোট ২২,০১৪টি সংযোগ বকেয়া বিলের কারণে বিচ্ছিন্ন করা হয়, যার মধ্যে ১৬,৮০৩ জন গ্রাহক বিল পরিশোধ করে পুনরায় সংযোগ ফিরে পান। এপ্রিল ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রতি মাসেই এই অভিযান চলেছে। জুলাই মাসে ৩,২১৬টি এবং মে মাসে ২,৯২৪টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, যা এই অর্থবছরের অন্যতম বৃহৎ অভিযান হিসেবে বিবেচিত।

শুধু বকেয়া বিল নয়, রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম ‘হুক লাইন’ বা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার একটি বড় সমস্যা হয়ে আছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৯,৯৪২টি হুক লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

এছাড়া এই সময়ে ৩ কোটি ১১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০,৯৪৮টি, এবং ৩ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু অসাধু গ্রাহকের কারণে হাজার হাজার সৎ গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অতিরিক্ত লোডের কারণে কোথাও ট্রান্সফরমার পুড়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও বিদ্যুৎ লাইন বিকল হচ্ছে। ফলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন, লাইন মেরামত ও অবকাঠামো উন্নয়নে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ দফতরকে।

রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে রাজস্ব আদায়, বিদ্যুৎ চুরি রোধ এবং পরিষেবা উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ পুনরায় জানান, বিদ্যুৎ চোরদের ধরতে নজরদারি দল নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে বকেয়া বিল থাকা গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়াও চলবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও বিদ্যুৎ কর্পোরেশন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও উন্নত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে এই উন্নয়নের সুফল পেতে হলে প্রত্যেক গ্রাহককে নিয়ম মেনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে এবং সময়মতো বিল পরিশোধ করতে হবে।

Releated Posts

ঊনকোটির সংরক্ষণ ও পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্রের বিশেষ উদ্যোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন সাংসদ বিপ্লব

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ জুলাই: ত্রিপুরার ঐতিহাসিক শৈব তীর্থ ঊনকোটির সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নে কেন্দ্র সরকার…

ByByReshmi Debnath Jul 24, 2026

পশ্চিম মুহুরীপুরে একই পরিবারের তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার, রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য

শান্তিরবাজার, ২৪ জুলাই: দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজার মহকুমার অন্তর্গত পশ্চিম মুহুরীপুর এলাকায় একই বাড়ি থেকে এক দম্পতির রক্তাক্ত…

ByByReshmi Debnath Jul 24, 2026

রাজ্য পুলিশ মহানির্দেশকের অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলার তদন্তে এসপি-র নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তদল গঠিত

আগরতলা, ২৪ জুলাই: রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকরের মৃত্যুর মামলার তদন্ত করবেন পশ্চিম জেলা পুলিশ সুপার নমিত পাঠক।…

ByByReshmi Debnath Jul 24, 2026

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন মো. সাহাবুদ্দিন

ঢাকা, ২৪ জুলাই : বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকারকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে…

ByBySandeep Biswas Jul 24, 2026
Scroll to Top