News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • গ্রামোন্নয়নে কেন্দ্রের বিশেষ নজর, ত্রিপুরার জন্য ১,০৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ
Image

গ্রামোন্নয়নে কেন্দ্রের বিশেষ নজর, ত্রিপুরার জন্য ১,০৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জুন: গ্রামীণ কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জীবিকা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকারের ঘোষিত নতুন ‘বিকশিত ভারত-গ্রামীণ ভারত’ কর্মসূচির আওতায় ত্রিপুরার জন্য ১,০৪১.০৭ কোটি টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কর্মসূচিটি কার্যকর হওয়ার আগে এই বরাদ্দ রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থান খাতে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে এই বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেন এবং নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন।

কেন্দ্র সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আত্মনির্ভর ও সমৃদ্ধ গ্রাম গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে অবকাঠামো ও জনসম্পদ সৃষ্টির কাজ ত্বরান্বিত হবে।

কেন্দ্র ইতিমধ্যে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (এমজিএনআরইজিএ)-এর অধীনে ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য অতিরিক্ত ৯৫ হাজার ৬৯২ কোটি ৩১ লক্ষ টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বরাদ্দও ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থ গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, জল সংরক্ষণ প্রকল্প, জীবিকাভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচি, কৃষি সহায়ক অবকাঠামো এবং কমিউনিটি সম্পদ সৃষ্টির মতো বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।
কর্মকর্তাদের মতে, এই বরাদ্দের ফলে ত্রিপুরার গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে জল সংরক্ষণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সম্পদ সৃষ্টিমূলক প্রকল্পগুলিতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

নতুন কর্মসূচির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উন্নয়ন পরিকল্পনায় গ্রাম পঞ্চায়েতের সক্রিয় ভূমিকা। কেন্দ্র সরকার দেশজুড়ে প্রায় ২.৮ লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে।
গ্রামসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েত স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প চিহ্নিত করবে। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই সুপারিশের ভিত্তিতে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করবে। এর ফলে স্থানীয় সমস্যার সমাধান যেমন হবে, তেমনি দীর্ঘস্থায়ী জনসম্পদও গড়ে উঠবে বলে মনে করছে কেন্দ্র। শিবরাজ সিং চৌহান রাজ্যগুলিকে আগাম পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রকল্প অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নতুন কর্মসূচি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু করা যায়।

বৈঠকে শ্রমিক কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দেন, নতুন কর্মসূচিতে রূপান্তরের সময় কোনো শ্রমিকের কর্মসংস্থানে যেন বিঘ্ন না ঘটে এবং মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রেও যেন কোনো বিলম্ব না হয়।

রাজ্যগুলিকে এমজিএনআরইজিএ-র অধীনে কর্মসংস্থানের সুযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের আইনগত অধিকার সুরক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, নিয়মিত কর্মসংস্থান ও সময়মতো মজুরি প্রদান গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক ও ডিজিটাল পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, বহু রাজ্য ইতোমধ্যে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি), ই-কেওয়াইসি, ফেস অথেন্টিকেশন এবং এসএমএস-ভিত্তিক তথ্যপ্রদান ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।
কেন্দ্র জানিয়েছে, ২৬টি রাজ্য ইতোমধ্যে ‘বিকশিত ভারত-গ্রামীণ ভারত’ কর্মসূচির লক্ষ্য অনুযায়ী বাজেট সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে রাজ্যগুলিকে কৃষি মৌসুম চিহ্নিতকরণ, প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি এবং জেলা ও ব্লক পর্যায়ে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নতুন কর্মসূচির বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করতে আগামী ২৮ ও ২৯ জুন নয়াদিল্লির আইসিএআর-আইএআরআই পুসা ক্যাম্পাসে জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। সম্মেলনে গ্রামীণ উন্নয়নের সফল মডেল, নীতি সমন্বয়, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার।

Releated Posts

নির্বাচনী ময়দানে মনোনয়নের ঢল, জমা পড়ল ১০,৯৫৮ মনোনয়নপত্র, চূড়ান্ত প্রার্থী ১০৯৩৬

আগরতলা, ৮ সেপ্টেম্বর: আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ত্রিপুরায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার…

ByByReshmi Debnath Sep 8, 2026

আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে বিদ্যালয় ছুটের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে ত্রিপুরা: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৮ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আজ জানিয়েছেন, সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মৌলিক সাক্ষরতা শক্তিশালী করার…

ByByReshmi Debnath Sep 8, 2026

রাজ্যের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে সান্ধ্যকালীন বহির্বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা চালু

আগরতলা, ৮ সেপ্টেম্বর: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উন্নত স্বাস্থ্য…

ByByTaniya Chakraborty Sep 8, 2026

সরকারের পারফরম্যান্স মাইনাস জিরো, বিজেপিকে কড়া আক্রমণ মানিক সরকারের

আগরতলা, ৮ সেপ্টেম্বর: রাজ্য সরকারের পারফরম্যান্সকে ‘মাইনাস জিরো’ বলে কটাক্ষ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিআইএম নেতা মানিক সরকার।…

ByByTaniya Chakraborty Sep 8, 2026
Scroll to Top