নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে বড়সড় ডিপফেক ও ভুয়ো তথ্য প্রচারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। তাদের দাবি, অশান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে হিংসা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ভুয়ো ও বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। কিছু ভিডিওতে সেনা পোশাক পরা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক মন্তব্য করতে দেখা গেলেও, গোয়েন্দাদের সন্দেহ সেগুলি বিভ্রান্তিকর বা কৃত্রিমভাবে তৈরি।
ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) এক আধিকারিক জানান, সমাজবিরোধী শক্তি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হিংসা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ধরনের ভিডিও ছড়াচ্ছে। ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ভুয়ো ও বিকৃত পোস্ট চিহ্নিত করে সেগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু করেছে।
আরও এক আধিকারিকের মতে, এই ধরনের পোস্টের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাঁর কথায়, “এ ধরনের কনটেন্ট দীর্ঘ সময় সামাজিক মাধ্যমে থাকতে দেওয়া যায় না। যত বেশি সময় এগুলি অনলাইনে থাকবে, ততই বেশি ক্ষতি হতে পারে।”
গোয়েন্দা সংস্থাগুলির দাবি, একাধিক গোষ্ঠী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ বা সেনা সদস্যদের নামে ভুয়ো বার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এর মূল উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা নষ্ট করা। তাঁদের মতে, ভারতীয় সেনাবাহিনী এই অপপ্রচারের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে, কারণ দেশের মানুষের সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর আস্থা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, গত বছর পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও একই ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। অভিযোগ, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-সমর্থিত একাধিক সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে লক্ষ্য করে ভুয়ো প্রচার চালিয়েছিল। সেই সময় ভুয়ো ভিডিওর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর বড় ক্ষয়ক্ষতির দাবি করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিদেশি শক্তির সম্ভাব্য ভূমিকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে এবং বর্তমান আন্দোলনের আবহে সেই অপপ্রচার আরও বাড়তে পারে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলন শুরুর পর থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সরকারবিরোধী মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে—এমন প্রায় ২০টি ভিডিও চিহ্নিত করা হয়েছে। ভিডিওগুলিতে নামফলক, পদমর্যাদার চিহ্ন বা অন্য কোনও পরিচয় শনাক্ত করার মতো তথ্য না থাকায় তদন্তে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
নিরাপত্তা সংস্থার এক আধিকারিক জানান, ভুয়ো ভিডিওগুলি প্রথমে কয়েক ঘণ্টার জন্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, পরে দ্রুত মুছে ফেলা হচ্ছে। তাঁর মতে, উৎস গোপন রাখতেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই এই ধরনের ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করতে পারে এবং তার প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।



















