ঢাকা, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করা শাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই বছর আগেই তিনি পদ ছেড়ে দিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর তিনিই ছিলেন দেশের একমাত্র শীর্ষ সাংবিধানিক পদাধিকারী, যিনি দায়িত্বে বহাল ছিলেন।
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র দ্য ডেইলি স্টার-কে শাহাবুদ্দিন জানান, স্বাস্থ্যগত কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছি। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলার নেই।”
সংবাদমাধ্যমের দাবি, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শাহাবুদ্দিনের টেলিফোনে কথা হয়েছিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বিষয়টি জানতে পারার পর তাঁকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র এক শীর্ষ নেতা দাবি করেছেন, কথিত ওই ফোনালাপই পদত্যাগের একমাত্র কারণ নয়। তাঁর মতে, বিষয়টি আরও জটিল।
বাংলাদেশের আরেক শীর্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলো জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনের পদে বহাল থাকা নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল।
এদিকে, আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কড়া অবস্থানের মধ্যেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেছিলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনকালে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁকে অপসারণ, দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন।
সূত্র: আইএএনএস


















