নয়াদিল্লি, ১৮ জুন (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছরের সাফল্য তুলে ধরে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, এই সময়কাল উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য সমন্বয়ের স্বর্ণযুগ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে অমিত শাহ লেখেন, “মোদি সরকারের ১২ বছর উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের মিলনের এক স্বর্ণযুগ।”
তিনি বলেন, “এই ১২ বছরে একদিকে যেমন শ্রীরাম মন্দির, কাশী বিশ্বনাথ করিডর এবং উজ্জয়িনীর মহাকাল লোকের নির্মাণ হয়েছে, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, অন্ন ভাণ্ডার, বিশ্বমানের সংযোগ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র মতো উদ্যোগ দেশের উন্নয়নের যাত্রাকে অভূতপূর্ব গতি দিয়েছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এক কোটি ঐতিহাসিক নথি ডিজিটালাইজেশন, ৬৬৮টি প্রাচীন প্রত্নবস্তু দেশে ফিরিয়ে আনা, ১১টি আদিবাসী স্বাধীনতা সংগ্রামী জাদুঘর প্রতিষ্ঠা এবং ১১টি ভারতীয় ভাষাকে ধ্রুপদি ভাষার মর্যাদা প্রদান— এই সব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রমাণ করেছেন যে উন্নয়ন ও ঐতিহ্য একে অপরের পরিপূরক।
এদিকে, বৃহস্পতিবারই অমিত শাহ ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, মাদক ও অবৈধ নেশাজাত দ্রব্যের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াই এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়।
এই বৈঠকটি এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হল, যখন একদিন আগেই ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সেখানে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকের পর এক্স-এ পোস্ট করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর লেখেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, মাদক থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”
গত মাসে ভারত সফরে এসে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওও ভারতকে আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাসহ একাধিক বৈশ্বিক ইস্যুতে ভারত ও আমেরিকার অবস্থান কৌশলগতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে রুবিও বলেন, ভারত ও আমেরিকা— উভয়ই গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে জবাবদিহিতা ও জনপর্যবেক্ষণের গুরুত্ব ভালোভাবেই বোঝে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের কারণে ভারত ও আমেরিকা উভয় দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এই ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে দৃঢ় সহযোগিতা বিদ্যমান।



















