নয়াদিল্লি, ২ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতের ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফ ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে। ‘অপারেশন ভিস্টা ১.০ (ভিসা স্ট্যাটাস ভেরিফিকেশন)’ অভিযানের আওতায় তাঁদের আটক করা হয়। পরে বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দফতর (এফআরআরও) তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজধানীতে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থান করছেন বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করছেন—এমন বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করতে স্পেশাল স্টাফের ফরেনার্স সেল এই বিশেষ অভিযান চালায়।
পুলিশ জানিয়েছে, সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসে তল্লাশির সময় নবি করিম এলাকার আরাকাশান রোডের একটি হোটেলে ওই ছয় বাংলাদেশি নাগরিকের সন্ধান মেলে।
তাঁদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং অভিবাসন সংক্রান্ত নথি যাচাই করে দেখা যায়, তাঁরা সবাই বৈধ ডাবল এন্ট্রি ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এই ভিসা অনুযায়ী, প্রতিবার সর্বোচ্চ ১৫ দিন ভারতে থাকার অনুমতি ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করেও তাঁরা ভারতে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ।
আটক ব্যক্তিদের পরিচয় হল—সিলেটের বাসিন্দা শফি ইমাম নাফিস সিদ্দিকী (৩১) ও এহিয়া এহতেশাম (৩১), গোপালগঞ্জের বাসিন্দা আসিফ মোল্লা (২১) ও হাসান শেখ (২৪), এবং সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা এমডি বুলবুল হোসেন (২০) ও মোস্ট তিশা খাতুন (২১)।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা স্বীকার করেছেন যে বৈধ ডাবল এন্ট্রি ভিসায় ভারতে এসেছিলেন এবং মধ্য দিল্লির একটি হোটেলে থাকছিলেন। তবে ভিসার শর্ত অনুযায়ী প্রতিবার ১৫ দিনের বেশি থাকার অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও তাঁরা কোনও ধরনের মেয়াদ বৃদ্ধি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই অতিরিক্ত সময় অবস্থান করেছেন।
যাচাই প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের এফআরআরও-র সামনে হাজির করা হয়। এফআরআরও তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে ‘রেস্ট্রিকশন অর্ডার’ জারি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এফআরআরও-র নির্দেশ অনুযায়ী, বহিষ্কারের (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ছয়জনকেই দিল্লির সরাই রোহিল্লার শাহজাদা বাগ এলাকার সেবা ধাম ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হবে।
এই মামলায় পুলিশ ছয়টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ছয়টি ভারতীয় ডাবল এন্ট্রি ভিসা, অভিবাসন ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত নথি এবং হোটেলে থাকার রেকর্ড বাজেয়াপ্ত করেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যাচাইয়ে আটক ছয় বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য মেলেনি। বর্তমান পদক্ষেপটি শুধুমাত্র ভিসার অনুমোদিত সময়সীমা অতিক্রম করে অবস্থান করার কারণে ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।


















