ওয়াশিংটন, ২ আগস্ট (আইএএনএস): ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি (ইনডাস ওয়াটার্স ট্রিটি) সদিচ্ছা ও বন্ধুত্বের মনোভাব নিয়ে গৃহীত হলেও, গত পাঁচ দশকে পাকিস্তান সেই সদিচ্ছার ভিত্তিকেই ধ্বংস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় কোয়াত্রা। তাঁর দাবি, চুক্তি স্থগিত রাখার ভারতের সিদ্ধান্ত শুধু পাকিস্তানের আচরণের বাস্তবতাকেই স্বীকার করেছে।
‘নিউজউইক’-এ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে ভারতের প্রাক্তন বিদেশসচিব কোয়াত্রা লেখেন, সিন্ধু জলচুক্তির আওতায় ভারতের নিয়ন্ত্রণে আসে তিনটি পূর্বাঞ্চলীয় নদী, যা অববাহিকার মোট জলসম্পদের প্রায় ২০ শতাংশ। অন্যদিকে পাকিস্তান পায় তিনটি পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীর জল, যা মোট প্রবাহের প্রায় ৮০ শতাংশ। এই অসম বণ্টনের ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়ন দীর্ঘদিন বাধাগ্রস্ত হলেও ভারত চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।
তিনি বলেন, গত বছরের পাহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ভারত তার অধিকার প্রয়োগ করে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রেখেছে। পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদে সমর্থন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই অবস্থান বহাল থাকবে।
কোয়াত্রার অভিযোগ, ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের নীতি বরাবরই যুদ্ধ, বৈরিতা এবং সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। ভারতীয় সংসদে হামলা, মুম্বই সন্ত্রাসী হামলা, উরি, পাঠানকোট এবং পাহেলগাম হামলার উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদে ভারতে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ভারত যখনই সিন্ধু জলচুক্তির আওতায় কোনও প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে, পাকিস্তান তখনই প্রশাসনিক জটিলতা ও বাধা সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে চুক্তি পুনর্বিবেচনার ভারতের প্রস্তাবও ইসলামাবাদ নাকচ করে দেয়, যার ফলে ভারতের জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনার পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয়নি। এছাড়া ২০১২ সালে তুলবুল নেভিগেশন প্রকল্পে জঙ্গি হামলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পাকিস্তানের বর্তমান জলসংকটের জন্য ভারতকে দায়ী করার প্রবণতার সমালোচনা করে কোয়াত্রা বলেন, এই সংকট মূলত পাকিস্তান সরকারের দুর্বল জলব্যবস্থাপনা ও অপশাসনের ফল। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের ঘাড়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার দায় চাপানোর অভ্যাস এখন পুরনো হয়ে গেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া।
ভারত-পাকিস্তান সংলাপ পুনরায় শুরু করার আহ্বানের প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, “সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না। সন্ত্রাস ও বাণিজ্য একসঙ্গে চলতে পারে না। জল এবং রক্তও একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না।”
পাকিস্তানের উদ্দেশে কোয়াত্রার বার্তা, ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার জন্য সম্মেলন করার বদলে নিজেদের জল ব্যবস্থাপনার উন্নতি করা উচিত। একইসঙ্গে তিনি বলেন, যদি পাকিস্তান সত্যিই দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে ভারতের সহযোগিতা চায়, তবে সবার আগে তাদের গড়ে তোলা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে। (আইএএনএস)


















