কাবুল, ২ আগস্ট (আইএএনএস): বৈধ বসবাসের নথি না থাকা বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার আফগান নাগরিককে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আফগান সংবাদমাধ্যম খামা প্রেস পাঞ্জাব প্রাদেশিক প্রশাসনের তথ্য উদ্ধৃত করে এ খবর জানিয়েছে।
পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্র দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১,৩৯,৯০২ জন আফগান নাগরিককে আটক করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও ২৪৮ জন আফগান নাগরিককে ৩৯টি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে তাঁদের তোরখাম সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে পাঠানো হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে বসবাসকারী আফগান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বহিষ্কার অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে এই অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানে থাকা বহু আফগান নাগরিক ভিসা নবায়ন এবং বৈধ অবস্থান বজায় রাখতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
পাকিস্তান সরকারের দাবি, গত তিন বছরে তারা প্রায় ২৬.৬ লক্ষ নথিবিহীন আফগান অভিবাসীকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠিয়েছে।
গত জুলাই মাসে খাইবার পাখতুনখোয়ার চরসাদ্দা শহরে অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযানে ৪০ জন নথিবিহীন আফগান নাগরিককে আটক করে পাকিস্তান পুলিশ।
চরসাদ্দার ডেপুটি কমিশনার আজমতুল্লাহ ওয়াজির জানান, আটক ব্যক্তিদের প্রথমে পেশোয়ারের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদেরও তোরখাম সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হবে।
জেলা পুলিশ প্রধান রিফাতউল্লাহ খান জানান, চরসাদ্দা থেকে পেশোয়ারের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো নথিবিহীন আফগান নাগরিকের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১৩৩-এ পৌঁছেছে। প্রশাসনের দাবি, বৈধ নথি ছাড়া পাকিস্তানে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশ দেয়, ১০ জুলাই থেকে বৈধ ভিসা ছাড়া দেশে বসবাসকারী যে কোনও আফগান নাগরিককে অবিলম্বে আটক করতে হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে পাকিস্তান সরকার আফগান অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর অভিযান শুরু করে। পরে গত বছরের এপ্রিলে শত-সহস্র আফগান নাগরিকের আবাসিক অনুমতিপত্র বাতিল করে সরকার জানিয়ে দেয়, স্বেচ্ছায় দেশ না ছাড়লে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (আইএএনএস)



















