কলকাতা, ২ আগস্ট (আইএএনএস): পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরের একটি আবাসন থেকে গ্রেফতার হওয়া জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম)-এর সন্দেহভাজন সদস্য হামিম মণ্ডলের মালিকানাধীন একটি দর্জির দোকানের হদিশ পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দোকানটি শুধু দর্জির কাজের জন্য নয়, তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার আড়াল হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, হাওড়ার পিলখানা এলাকার আলম মিস্ত্রি লেনের একটি সরু গলিতে অবস্থিত ওই দোকানে মূলত পোশাকের ট্যাগ তৈরি ও সেলাইয়ের মতো ছোটখাটো কাজ করা হতো। তবে এসটিএফের ধারণা, এই ব্যবসার আড়ালে অন্য কার্যকলাপও চলতে পারে।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, পশ্চিমবঙ্গে আসার পর প্রথমদিকে হামিম মণ্ডল পিলখানাতেই থাকতেন এবং সেই সময়ই তিনি দোকানটি চালু করেন। পরে তিনি প্রথমে কলকাতার নিউ টাউন এলাকায় এবং পরবর্তীতে পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরে চলে যান। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, পিলখানায় থাকাকালীন তিনি একটি আবাসনের এক কামরার ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন।
এদিকে, হামিম মণ্ডলের বাবা বলে পরিচয় দেওয়া মইনুদ্দিন মণ্ডল, যিনি ছেলের সঙ্গে পিলখানায় থাকতেন, হামিম গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই পলাতক। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হামিম খুবই অন্তর্মুখী ছিলেন এবং কারও সঙ্গে বিশেষ মেলামেশা করতেন না। তবে তাঁর বাবা পরিচয়দানকারী ব্যক্তি মাঝে মাঝে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতেন। যদিও ওই ব্যক্তি সত্যিই হামিমের বাবা কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।
অন্যদিকে, ধৃত হামিম মণ্ডল এবং তাঁর সহযোগী অর্পিতা সরকারের জিজ্ঞাসাবাদে এসটিএফ জানতে পেরেছে যে, সম্প্রতি নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনা ছিল। এসটিএফের ইন্সপেক্টর জেনারেল গৌরব শর্মা শনিবার জানান, এই উদ্দেশ্যে পুলিশের পোশাক সংগ্রহের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল, যাতে পুলিশের ছদ্মবেশে ভিড়ে মিশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যায়। তবে হামিম বা অর্পিতা শেষ পর্যন্ত যন্তর-মন্তরে গিয়েছিলেন কি না কিংবা পুলিশের পোশাক সংগ্রহে সফল হয়েছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তদন্তকারীরা গোটা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন এবং হামিমের সম্ভাব্য যোগাযোগের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছেন। (আইএএনএস)
























