নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ আগস্ট: গত কয়েকদিন ধরে সিপিআইএমের একাংশ নেতৃত্ব বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে ধর্মীয় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করল প্রদেশ বিজেপি। রবিবার প্রদেশ বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন দলের মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, সিপিআইএমের কিছু নেতা প্রচারের আলোয় আসার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। তাঁর দাবি, বিরোধী দল বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে বলার মতো কোনও ইস্যু না থাকায় ধর্মীয় আবেগকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নবেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সিপিআইএম নেতারা রামকৃষ্ণ মিশন, স্বামী বিবেকানন্দ এবং সনাতন ধর্ম সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যকেও বিকৃতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে মানুষ এসব প্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে রামকৃষ্ণ মিশনকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন নবেন্দু ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, সেই ঘটনাগুলি এখনও মানুষের স্মৃতিতে রয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরার পুনরায় শিক্ষকতায় যোগদানের বিষয়েও প্রশ্নের জবাব দেন বিজেপির মুখপাত্র। তিনি বলেন, শিক্ষকতা তাঁর পেশাগত দক্ষতার অংশ এবং দলীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সেই কাজ করলে তাতে কোনও রাজনৈতিক সমস্যা নেই। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে দলীয় অসন্তোষ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে এড়িয়ে যান তিনি। নবেন্দু ভট্টাচার্য জানান, রেবতী ত্রিপুরা এখনও দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, যদিও সেই দায়িত্বের বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
এছাড়া আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য অর্জনকারী ত্রিপুরার অস্মিতা দে-র উত্তরপ্রদেশে চাকরি পাওয়ার বিষয়েও প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ত্রিপুরার বহু যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন, তাই অস্মিতার উত্তরপ্রদেশে চাকরি পাওয়াও স্বাভাবিক বিষয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময় ত্রিপুরায় ক্রীড়া পরিকাঠামো ও খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়া হতো না। বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে ক্রীড়াক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে এবং খেলোয়াড়দের আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির অফিস সম্পাদক মিহির সরকার এবং দলের মিডিয়া ইনচার্জ সুনীত সরকার।
























