কেদারনাথ, ১৭ জুন (আইএএনএস): ২০১৩ সালের ভয়াবহ কেদারনাথ বিপর্যয়ের ১৩তম বর্ষপূর্তিতে বুধবার কেদারনাথ ধাম-এ নিহত ও নিখোঁজদের স্মরণে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করা হয়।
কেদারসভা, বদ্রি-কেদার মন্দির কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন এবং পাণ্ডা-পুরোহিত সমাজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শোকসভায় ২০১৩ সালের ১৬-১৭ জুনের সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিচারণ করা হয়। উপস্থিত সকলে নিহত ও নিখোঁজদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে দুই মিনিট নীরবতা পালন করেন।
কেদারসভা সভাপতি রাজকুমার তিওয়ারি বলেন, “২০১৩ সালের কেদারনাথ বিপর্যয় উত্তরাখণ্ডের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। এই বিপর্যয়ে প্রাণ হারানো সকল মানুষের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করি। এই দুর্যোগ থেকে পাওয়া শিক্ষাকে আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে।”
২০১৩ সালের ১৬ ও ১৭ জুন প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে কেদারনাথ মন্দিরের দুই পাশ দিয়ে প্রবাহিত মন্দাকিনী নদী ও সরস্বতী নদী-সহ বিভিন্ন নদী ও জলধারায় হঠাৎ জলস্তর বেড়ে যায়। ১৬-১৭ জুনের মধ্যরাতে মন্দিরের পিছন দিক থেকে নেমে আসা প্রবল জলস্রোত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এতে বহু মানুষের মৃত্যু হয় এবং এলাকার অসংখ্য ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরবর্তী গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানান, এই বিপর্যয়ের পেছনে আবহাওয়া, জলবিদ্যা এবং পরিবেশগত একাধিক কারণ একযোগে কাজ করেছিল। অস্বাভাবিক সময়ে ও অত্যন্ত তীব্র মেঘভাঙা বৃষ্টি, দ্রুত হিমবাহ গলন এবং হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনাই বিপর্যয়কে আরও ভয়ঙ্কর করে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেদারনাথের উপরে অবস্থিত চোরাবারি হ্রদ-এর প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ জল ও ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে নেমে আসে এবং সমগ্র অঞ্চল তছনছ হয়ে যায়।
মনে করা হয়, বিপর্যয়ের সময় কেদার উপত্যকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও মৃতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪,৪০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছিলেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে ৯টি জাতীয় সড়ক, ৩৫টি রাজ্য সড়ক, ৮৬টি মোটরযান চলাচলের সেতু এবং ১৭২টি ছোট-বড় সেতু ভেসে যায়। ফলে কেদার উপত্যকার ৪,২০০-রও বেশি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল রামবারা। ২০১৩ সালের আগে গৌরীকুণ্ড থেকে কেদারনাথগামী তীর্থযাত্রীদের জন্য এটি ছিল একটি জনপ্রিয় বিশ্রামকেন্দ্র। এখানে অসংখ্য হোটেল, ধর্মশালা, দোকান ও খাবারের আড্ডা ছিল। ঘোড়া-খচ্চর, তীর্থযাত্রী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভিড়ে এলাকা সবসময় সরগরম থাকত। কিন্তু সেই ভয়াবহ দুর্যোগে রামবাড়া কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।



















