গান্ধীনগর, ২ আগস্ট (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে রবিবার দেশজুড়ে শুরু হল ‘ড্রাগ-ফ্রি ইউথ ফর বিকশিত ভারত প্লেজ ক্যাম্পেন’। এর রাজ্যস্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গুজরাটের গান্ধীনগরে ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি (এনএফএসইউ)-তে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে গুজরাটের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত এবং মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল তরুণদের মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নেওয়ার আহ্বান জানান।
‘জেন-জেড অ্যাগেইনস্ট অ্যাডিকশন – ড্রাগ-ফ্রি ইউথ ফর বিকশিত ভারত প্লেজ ক্যাম্পেন’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি দেশের যুবসমাজকে উদ্দেশ করে ভাষণ দেন। তিনি মাদকমুক্ত ভারত গড়ে তুলতে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
গান্ধীনগরের অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত যুবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ‘ড্রাগ-ফ্রি ইউথ – বিকশিত ভারত’ শপথ গ্রহণে উৎসাহিত করেন। তাঁদের মতে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে একটি মাদকমুক্ত প্রজন্ম অপরিহার্য।
আচার্য দেবব্রত বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লক্ষ্য শুধু উন্নত ভারত নয়, একটি মাদকমুক্ত ভারত গড়ে তোলা। তিনি তরুণদের মাদকাসক্তির পরিবর্তে জল সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং প্রবীণদের সম্মান করার মতো ইতিবাচক কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
মহাত্মা গান্ধী, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং ভগৎ সিংয়ের আদর্শের উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতি তাঁদের আত্মনিবেদন থেকেই বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
নিজের প্রাকৃতিক কৃষি অভিযানের প্রসঙ্গে রাজ্যপাল জানান, তিনি গুজরাটের প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে রাত কাটান এবং ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচির আওতায় পঞ্চায়েতের পতিত জমিতে বৃক্ষরোপণে উৎসাহ দেন। প্রতিটি গাছের দায়িত্ব একটি স্থানীয় পরিবারের হাতে তুলে দিয়ে ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে শিক্ষা, মাদকমুক্তি এবং প্রাকৃতিক কৃষি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কাজও করছেন। রাসায়নিক সারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতার ফলে গুজরাটে ইতিমধ্যেই প্রায় ৮.৫ লক্ষ কৃষক প্রাকৃতিক কৃষি গ্রহণ করেছেন বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে ‘মাই ভারত’-এর এক স্বেচ্ছাসেবকের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল বলেন, মাদকবিরোধী এই অভিযানকে গণআন্দোলনে পরিণত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তাঁর কথায়, ‘মাই ভারত’-এর চেতনা ব্যক্তিস্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে হওয়া উচিত।
দেশব্যাপী এই কর্মসূচিতে ২৬টি রাজ্যের রাজ্যপাল এবং ১১টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা অংশ নেন। সারা দেশের যুবক-যুবতীরা মাদকবিরোধী শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একটি সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং একটি পথনাটকেরও আয়োজন করা হয়।
‘মাই ভারত’-এর রাজ্য অধিকর্তা সচিন শর্মা জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত যুব, বিকশিত ভারত’ ভাবনার অংশ হিসেবে সংস্থাটি ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ২.৫ কোটিরও বেশি যুবকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে গুজরাটেই রয়েছেন ৯ লক্ষের বেশি। তাঁর মতে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণে যুবসমাজের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা, দায়িত্ববোধ এবং জাতীয় সেবার মানসিকতা গড়ে তোলাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। (আইএএনএস)



















