নয়াদিল্লি, ২ আগস্ট (আইএএনএস): লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) নিয়ে মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাহুলের অভিযোগ, কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় বিশেষ করে তামিলনাড়ুসহ একাধিক রাজ্যের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই মন্তব্যকে সমর্থন করেছে কংগ্রেস, অন্যদিকে বিজেপি ও তাদের শরিকরা পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে কংগ্রেসকে ‘বংশবাদী রাজনীতির দল’ বলে কটাক্ষ করেছে।
শনিবার চেন্নাইয়ের মামল্লপুরমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। তিনি বলেন, তামিলনাড়ুসহ দেশের সব আঞ্চলিক ও জাতীয় রাজনৈতিক দলের উচিত এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংসদে এমন কোনও আইন প্রতিহত করা, যা রাজ্যের প্রতিনিধিত্বকে দুর্বল করতে পারে। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য তামিলনাড়ুর মানুষের রাজনৈতিক ক্ষমতা খর্ব করা।
রাহুলের বক্তব্যকে সমর্থন করে কংগ্রেস সাংসদ মানিক্কম ঠাকুর বলেন, আগামী সপ্তাহ তামিলনাড়ুর ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তাঁর দাবি, ডিলিমিটেশন তামিলনাড়ুর স্বার্থবিরোধী এবং তিনি নিজেও এর বিরুদ্ধে ভোট দেবেন।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ বলেন, এই প্রস্তাব দেশের ঐক্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে এবং দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির প্রতি তা অন্যায় হবে। আরেক কংগ্রেস সাংসদ সুখদেও ভগতের অভিযোগ, প্রতিনিধিত্বের স্বার্থে নয়, ভোটের অঙ্ক মাথায় রেখেই বিজেপি সরকার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে।
অন্যদিকে বিজেপির মুখপাত্র তুহিন সিনহা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ডিলিমিটেশন নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন বংশানুক্রমিক বা পরিবারকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলি। তাঁর দাবি, আসন সংখ্যা বাড়লে নতুন প্রজন্ম, নারী এবং অরাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা মানুষ রাজনীতিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন, যা এই দলগুলির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করবে।
তুহিন সিনহা আরও বলেন, কেন্দ্র একাধিকবার স্পষ্ট করেছে যে দক্ষিণের রাজ্যগুলিসহ সব রাজ্যের লোকসভা আসনই আনুপাতিক হারে বাড়ানো হবে।
উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যও রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে বলেন, দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্মে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরা বিষয়টি সংবিধানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বিবেচনা করবেন বলে তাঁর বিশ্বাস।
রাজস্থান বিজেপি সভাপতি মদন রাঠোর বলেন, বর্তমানে কোথাও লোকসভা কেন্দ্রের জনসংখ্যা ৫০ লক্ষ, আবার কোথাও মাত্র ১ লক্ষ। তাই প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য রক্ষায় ডিলিমিটেশন জরুরি।
জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর বিধান পরিষদ সদস্য নীরজ কুমার সিং বলেন, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে না দেখে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই আলোচনা হওয়া উচিত। তাঁর মতে, দেশের সংবিধান অনুযায়ী ডিলিমিটেশন একটি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া।
বিজেপি নেতা টি. আর. শ্রীনিবাসও রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ডিলিমিটেশনকে বিজেপির ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, রাহুল সংবিধানের কপি হাতে রাখলেও তার বিধান যথাযথভাবে পড়েন না। (আইএএনএস)


















