লখনউ, ১৬ জুন (আইএএনএস): ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) ভোটারদের কাছে পৌঁছতে নতুন করে উদ্যোগী হয়েছে বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)। দলের প্রধান মায়াবতী মঙ্গলবার এক পর্যালোচনা বৈঠকে নেতাকর্মীদের ২০০৭ সালের মতো সামাজিক সমীকরণ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান।
লখনউয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মায়াবতী দলীয় সংগঠনকে তৃণমূল স্তরে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ওবিসি সম্প্রদায়ই বিএসপির নির্বাচনী কৌশলের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হবে।
বৈঠকে ওবিসি সমাজের মধ্যে দলের সাংগঠনিক উপস্থিতি, ভোটার সংযোগ এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন বিএসপি সুপ্রিমো। তিনি বলেন, ২০০৭ সালের নির্বাচনে বিএসপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ওবিসি ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং সেই আস্থা ও সমর্থন পুনর্গঠনের জন্য ধারাবাহিক প্রচার চালাতে হবে।
মায়াবতী দলীয় কর্মীদের গ্রাম ও ছোট শহরগুলিতে ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের প্রশ্নে দলের অবস্থান তুলে ধরার ওপরও জোর দেন।
তিনি দাবি করেন, ওবিসি সম্প্রদায়ের প্রকৃত স্বার্থ ও কল্যাণ শুধুমাত্র বিএসপি সরকারের আমলেই সুরক্ষিত ছিল। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি কেবল ভোটের সময় ওবিসি সম্প্রদায়ের কথা মনে করে।
বিএসপি নেত্রী তাঁর সরকারের আমলে দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের সামাজিক মর্যাদা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলির কথাও তুলে ধরেন।
সংরক্ষণ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মায়াবতী বলেন, সংবিধানের চেতনা অনুসরণ করে বিএসপি বরাবরই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় কাজ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ওবিসি ভোটাররা আবারও নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে উঠে আসছে। বিজেপি, সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (কংগ্রেস) যেখানে এই ভোটব্যাঙ্কে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে, সেখানে বিএসপি তাদের ঐতিহ্যবাহী দলিত-ওবিসি জোটকে পুনরুজ্জীবিত করার কৌশল নিয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রূপরেখা নির্ধারণে মায়াবতীর এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।



















