গোরখপুর, ১৫ জুন (আইএএনএস): মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। উত্তরপ্রদেশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর সহযোগিতায় বারাণসীর একটি কুরিয়ার সংস্থার গুদাম থেকে ১২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এক সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মাদকমুক্ত ভারত’ অভিযানের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার এই অভিযান চালানো হয়।
এনসিবি সূত্রে জানা গেছে, বারাণসী জেলার রোহানিয়া থানার অন্তর্গত জগৎপুর এলাকায় একটি কুরিয়ার সংস্থার গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে জানা গিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে গাঁজার প্যাকেটগুলিতে চতুরতার সঙ্গে রেশমি শাড়ির লেবেল লাগানো হয়েছিল। পাশাপাশি ভুয়ো নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে রসিদও তৈরি করা হয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গাঁজার চালানটি অসম থেকে পাঠানো হয়েছিল এবং উত্তরপ্রদেশের মউ জেলার রনিপুর এলাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল।
কর্তৃপক্ষের মতে, মাদক পাচারকারীরা কুরিয়ার পরিষেবাকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে নিষিদ্ধ মাদক পরিবহণ করছিল, যাতে নিরাপত্তা সংস্থার নজর এড়ানো যায়।
এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ আইন (এনডিপিএস আইন), ১৯৮৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত বৃহত্তর পাচারচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই গোরখপুর এনসিবি ও উত্তরপ্রদেশ এসটিএফ দেওরিয়া জেলায় যৌথ অভিযানে ৪০৬ কেজিরও বেশি গাঁজা উদ্ধার করেছিল এবং চারজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল। ওই চালানটিও অসম থেকে আনা হয়েছিল এবং পূর্ব উত্তরপ্রদেশে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তে জানা যায়।
সাম্প্রতিক মাসগুলিতে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। রায়বেরেলিতে অ্যান্টি-নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করে তিন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছিল।
এছাড়া চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সুলতানপুরে একটি ট্রাক থেকে দেড় টনেরও বেশি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়।
লখনউ, গাজিয়াবাদ ও নয়ডাসহ বিভিন্ন জেলায় সিন্থেটিক মাদক ও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ উদ্ধারের একাধিক ঘটনাও সামনে এসেছে। এসব অভিযানে বহু পাচারকারী গ্রেপ্তার হয়েছে এবং আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
কেন্দ্র ও রাজ্য সংস্থাগুলির সমন্বিত উদ্যোগ মাদক পাচার রোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দিয়েছে বলে কর্মকর্তাদের দাবি।
এনসিবি সাধারণ মানুষকে মাদক পাচার সংক্রান্ত তথ্য ‘মানস’ জাতীয় মাদক হেল্পলাইন ১৯৩৩ নম্বরে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থার আশ্বাস, তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।



















