কলকাতা, ৩ জুন (আইএএনএস): প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রী ও ফিরহাদ হাকিম বুধবার কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জীর অনুমতি নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমন্ত্রণে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে একাধিক তৃণমূল বিধায়ক রাজ্য সচিবালয় নবান্ন-এ উপস্থিত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমও। বৈঠক শেষে তিনি কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন।
তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে ফিরহাদ দলনেত্রীকে জানিয়েছিলেন। কুণালের বক্তব্য অনুযায়ী, “নেত্রী প্রথমে তাঁকে ইস্তফা না দেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ফিরহাদ মর্যাদা বজায় রেখে পদত্যাগ করতে চান বলে জানান। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মতি দেন।”
২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মেয়র পদে আসীন হন। ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা পুর নিগমের ইতিহাসে তিনি ছিলেন প্রথম মুসলিম মেয়র। পরে ২০২১ সালে কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দ্বিতীয়বার মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় আট বছর ধরে মন্ত্রিত্ব ও মেয়র পদ সামলানোর পর তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছে।
এর আগের দিন, মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার মেয়র-ইন-কাউন্সিল সদস্য তারক সিং পদত্যাগ করেন। তিনি ফিরহাদ হাকিমের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেন এবং ঘোষণা করেন যে তিনি আর তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।
তারক সিংহ অভিযোগ করেন, দলের কর্মী-সমর্থকদের যথাযথ সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে না। তাই তিনি আর “ঠান্ডা ঘরে বসে জ্ঞানগর্ভ কথা শুনতে” আগ্রহী নন। তাঁর পদত্যাগের পর ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, “আমরা দল হিসেবে কাজ করি। যা করব, একসঙ্গেই করব।”
এদিকে বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতিতে ঘটনাবহুল দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে বিরোধী দলনেতার পদে আসীন হন বলে জানা গেছে।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, দল ভাঙনের সম্ভাবনা রুখতেই কি এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অনেকের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবি এবং পরবর্তী অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাত্র, যুব, শ্রমিক ও মহিলা সংগঠনগুলিকে নতুন করে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।



















