নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই (আইএএনএস): দিল্লির জন্তর মন্তরে টানা ২০ দিন অনশন চালানোর পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের মূলনীতি হল “অসত্য” ও “হিংসা”।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ‘#ছাত্রোঁকিগুঞ্জ’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে রাহুল গান্ধী লেখেন, “সোনম ওয়াংচুকজি যখন অহিংস অনশনে ছিলেন, তখন তাঁকে জন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ ভুল।” তাঁর দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যার মতো বিষয়গুলি দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তিনি আরও বলেন, “ভারতের ছাত্রছাত্রীদের এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানো মানুষদের এই বিষয়গুলি নিয়ে আওয়াজ তোলা থেকে কোনও শক্তিই বিরত রাখতে পারবে না।”
উল্লেখ্য, জন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’-র নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করার ঘটনায় কংগ্রেস নেতা পবন খেরা-সহ একাধিক বিরোধী নেতা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এনসিপি (শরদ পওয়ার) প্রধান শরদ পওয়ার এবং শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউতও পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স-এ লিখেছেন, “সোনম ওয়াংচুক শুধুমাত্র সংলাপ চেয়েছিলেন, কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ তাঁর আবেদন উপেক্ষিত হয়েছে। গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রতি নীরবতা নয়, সংলাপের মাধ্যমে সাড়া দেওয়া উচিত। তাঁর কণ্ঠস্বর যেমন উপেক্ষিত হয়েছে, তেমনই অসংখ্য তরুণ ভারতীয়ের কণ্ঠস্বরও উপেক্ষিত হচ্ছে।”
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, “সংবিধান আমাদের ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সেই অধিকার কেড়ে নিতে বদ্ধপরিকর বলে মনে হচ্ছে।”
শরদ পওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আগেই আশঙ্কা করেছিলাম যে পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে, এবং সেটাই হয়েছে। এত প্রতিবাদের পরও কেন্দ্রীয় সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। তাই অন্য রাজনৈতিক দলগুলি আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে।”
অন্যদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপকে “কর্তৃত্ববাদী” বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে চলা ‘রাম রক্ষা’ আন্দোলন থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। (আইএএনএস)



















