ক্যানবেরা, ১৮ জুলাই (আইএএনএস): ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানি খাত অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলির জন্যও নতুন কৌশলগত সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করছে। ভারত সাশ্রয়ী মূল্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনে সক্ষম হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলির কাছে একটি আকর্ষণীয় প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রকাশনা ‘দ্য ইন্টারপ্রিটার’-এর এক প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অস্ট্রেলিয়া সফর মূলত মেলবোর্নে ভারতীয় প্রবাসীদের বৃহৎ সমাবেশের জন্য আলোচনায় থাকলেও, সফরে বিনিয়োগ, জ্বালানি, ক্রীড়া, শিক্ষা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত-অস্ট্রেলিয়া যৌথ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা ঘোষণার গুরুত্ব অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ততটা গুরুত্ব পায়নি। কারণ সেই সময়ে অউকাস, চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছিল। তবে গত এক দশকে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত ও গভীর হয়েছে।
নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা ঘোষণায় সামরিক মহড়ার জটিলতা বৃদ্ধি, দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা, সামরিক প্রশিক্ষণ ও জনবল উন্নয়ন এবং একে অপরের ভূখণ্ড থেকে বিমান মোতায়েন বাড়ানোর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া, দুই দেশ একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা রোডম্যাপ চূড়ান্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর আওতায় মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার অভিযান, লজিস্টিক সহায়তা এবং সমুদ্রের নিচের নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল সংক্রান্ত নতুন অংশীদারিত্বেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের মানববাহী মহাকাশ কর্মসূচির জন্য অস্ট্রেলিয়ার কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জে একটি নতুন মহাকাশ ট্র্যাকিং টার্মিনাল চালু করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশ আরও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েছে। উন্নত প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা এবং শিল্প সহযোগিতার নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরে ভারত প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিপাইনে ব্রহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, আর্মেনিয়ায় ভূমি থেকে আকাশে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ভিয়েতনামে উচ্চগতির টহল নৌকা এবং মিয়ানমারে সংস্কার করা কিলো-শ্রেণির সাবমেরিন রপ্তানি করেছে ভারত। এছাড়া, একটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা মরক্কোতে সাঁজোয়া যান উৎপাদন কেন্দ্রও স্থাপন করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ১৪৫টি প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক সংস্থার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখন সবচেয়ে বড় বাজার। ভারত বর্তমানে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং এমকিউ-৯ ড্রোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করছে। পাশাপাশি, ভারতের ছোট প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলিও ক্ষেপণাস্ত্র, সেন্সর, ড্রোন এবং প্রপেল্যান্ট উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।
প্রতিবেদনে ভারত-বিদেশ যৌথ উদ্যোগের উদাহরণ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার হানওয়া অ্যারোস্পেস এবং ভারতের লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)-র যৌথ উদ্যোগে তৈরি কে-৯ বজ্র স্বচালিত আর্টিলারি সিস্টেমের উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, গুজরাতে স্পেনের প্রযুক্তিনির্ভর সি-২৯৫ পরিবহণ বিমান এবং তেলঙ্গানায় মার্কিন নকশার ভি-ব্যাট ড্রোন উৎপাদনও ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।



















