News Flash

  • Home
  • দেশ
  • বাংলা-অসমে কড়াকড়ির জেরে দক্ষিণ ভারতে ঘাঁটি গাড়ছে অবৈধ অনুপ্রবেশ চক্র, দাবি নিরাপত্তা সূত্রের
Image

বাংলা-অসমে কড়াকড়ির জেরে দক্ষিণ ভারতে ঘাঁটি গাড়ছে অবৈধ অনুপ্রবেশ চক্র, দাবি নিরাপত্তা সূত্রের

নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে চলা কড়া অভিযানের জেরে দালালচক্র তাদের কৌশল বদলেছে বলে দাবি করেছে নিরাপত্তা সূত্র। তাদের মতে, এই দুই রাজ্যে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত দেশের অন্যান্য অংশে, বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

নিরাপত্তা আধিকারিকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার কারণে দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা জটিল আকার নিয়েছে। অসম ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর সহযোগিতায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর কাজ চালালেও সম্প্রতি সেই অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। তবে এখনও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বহু অবৈধ অনুপ্রবেশকারী লুকিয়ে রয়েছে বলে তাঁদের অনুমান।

সূত্রের দাবি, চলমান অভিযানের পর দালালচক্র এখন নজর এড়াতে অনুপ্রবেশকারীদের এমন রাজ্যগুলিতে পাঠানোর চেষ্টা করছে, যেখানে এই ধরনের বিষয়ে নজরদারি তুলনামূলকভাবে কম।

সম্প্রতি কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরু পুলিশ দিলাওয়ার হুসেন, রাসুল ইসলাম এবং মইদ্দিন ইসলাম নামে তিনজনকে একটি বড় অবৈধ অনুপ্রবেশ চক্রের মূলচক্রী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, তারা পশ্চিমবঙ্গের দালালদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছিল। তদন্তকারীদের মতে, এর পিছনে একটি বৃহৎ আন্তঃরাজ্য অনুপ্রবেশ চক্র সক্রিয়।

আরও এক আধিকারিকের দাবি, বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই দালালচক্র দ্রুত তাদের কার্যকলাপের কেন্দ্র বদলাচ্ছে। যেখানে কড়া নজরদারি চলছে, সেখানে কার্যকলাপ কমিয়ে দেশের অন্য অংশে নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা হচ্ছে। এর ফলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এক গোয়েন্দা আধিকারিকের দাবি, এই চক্রটি সুপরিকল্পিত এবং বিদেশি অর্থায়নের সঙ্গেও যুক্ত। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা (আইএসআই) দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অনুপ্রবেশকে একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তাঁর আরও দাবি, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত দালালরা বিপুল আর্থিক লাভ এবং পাকিস্তানের চাপের কারণে সহজে থামবে না।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর অভিযানে উঠে এসেছে, অবৈধ অনুপ্রবেশের পাশাপাশি এই চক্র মানবপাচার এবং কালো টাকার লেনদেনের সঙ্গেও জড়িত। ১৩টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ৪০ লক্ষ টাকা নগদ এবং সোনা উদ্ধার হয়েছে বলেও তদন্তকারী সংস্থার দাবি।

এছাড়া তদন্তে বিদেশি যোগেরও ইঙ্গিত মিলেছে। তদন্তকারীদের দাবি, যুক্তরাজ্যভিত্তিক কিছু হ্যান্ডলার আন্তঃদেশীয় হাওলা চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতে অবৈধ অর্থ পাঠিয়ে এই চক্রকে সহায়তা করছিল।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনটিতে উল্লিখিত আইএসআই-যোগ, বিদেশি অর্থায়ন এবং চক্রের কার্যকলাপ সংক্রান্ত তথ্যগুলি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি এবং তদন্তকারী সংস্থার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এই দাবিগুলির স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

Releated Posts

ইন্ডিয়া পোস্টের মাসকট ডিজাইন প্রতিযোগিতা, মোট পুরস্কার ২ লক্ষ টাকা

নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই (আইএএনএস): ইন্ডিয়া পোস্টের সরকারি মাসকট (প্রতীকী শুভেচ্ছাদূত) তৈরির জন্য দেশজুড়ে নাগরিকদের অংশগ্রহণে ‘ইন্ডিয়া পোস্ট মাসকট…

ByByNews Desk Jul 18, 2026

২১ দিনের অনশনের পর দুর্বল সোনম ওয়াংচুক, তবে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল: সফদরজং হাসপাতাল

নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই (আইএএনএস): ২১ দিনের অনশন শেষে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি জলবায়ু আন্দোলনকারী ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুকের…

ByByNews Desk Jul 18, 2026

তৃণমূলের স্থগিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৬৪ কোটি টাকার ‘ভুয়ো লেনদেন’ খতিয়ে দেখছে ইডি: ব্যাঙ্কের কাছে তথ্য তলব

কলকাতা, ১৮ জুলাই (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেসের স্থগিত (ফ্রিজ) থাকা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে একটিতে ১৬৪ কোটি টাকার কথিত…

ByByNews Desk Jul 18, 2026

ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার পাকিস্তানের নেই, সন্ত্রাসে মদতই তাদের রাষ্ট্রনীতি: বিদেশ মন্ত্রক

নয়াদিল্লি, ১৭ জুলাই(আইএএনএস): সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদত ও পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধে ফের সরব হল ভারত। শুক্রবার নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে…

ByByTaniya Chakraborty Jul 17, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top