কলকাতা, ১৮ জুলাই (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেসের স্থগিত (ফ্রিজ) থাকা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে একটিতে ১৬৪ কোটি টাকার কথিত ভুয়ো লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই লেনদেন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে।
সূত্রের দাবি, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ১৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডেবিট লেনদেনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি অ্যাকাউন্টে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও ইডি—উভয়ের নির্দেশে ডেবিট নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। বাকি ১২টি অ্যাকাউন্টে শুধুমাত্র রাজ্য পুলিশের নির্দেশে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
জানা গিয়েছে, ইডি ও রাজ্য পুলিশের নির্দেশে স্থগিত হওয়া তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, সব মিলিয়ে ১৫টি অ্যাকাউন্টে মোট জমার পরিমাণ প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ইডি যখন তিনটি স্থগিত অ্যাকাউন্টের নথি পরীক্ষা করছিল, তখন একটি অ্যাকাউন্টে ১৬৪ কোটি টাকার কথিত ভুয়ো লেনদেনের সন্ধান মেলে। তবে ওই লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও হাতে পায়নি তদন্তকারী সংস্থা। সেই কারণেই ব্যাঙ্কের কাছে সংশ্লিষ্ট তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ তথা রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়া ও বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে তিনটি অ্যাকাউন্ট স্থগিত রাখার আবেদন জানান। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ওই অ্যাকাউন্টগুলির অর্থের অপব্যবহার হতে পারে।
এরপর দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিধায়ক দলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যরাও একই দাবি জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলিতে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অর্থ থাকতে পারে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ব্যাঙ্ককে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে ডেবিট নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশ দেয়। পরে একই তিনটি অ্যাকাউন্টে ইডিও নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দেয়। এরপর গত মাসের শেষদিকে রাজ্য পুলিশের নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের আরও ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডেবিট লেনদেনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।



















