অভিজিৎ রায় চৌধুরী
নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই : লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদকে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। তবে তাঁদের জন্য লোকসভায় পৃথক আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয়জন সাংসদকে লোকসভায় শিবসেনা গোষ্ঠীর অধীনেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী ২০ জন তৃণমূল সাংসদকে এনসিপিআই হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই সূত্রেই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগে আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য এনসিপিআই-এর পক্ষ থেকে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিদ্রোহী সাংসদদের দলগত স্বীকৃতির বিষয়ে লোকসভার স্পিকার আপাতত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান না। বিষয়টি ভবিষ্যতে বিচারাধীন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সংসদীয় সূত্রের দাবি, এই ইস্যুর সঙ্গে একাধিক আইনি ও সংসদীয় প্রক্রিয়াগত প্রশ্ন জড়িত থাকায় তা আরও বিশদে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের জন্য পৃথক আসন বরাদ্দের ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই বিদ্রোহ সত্ত্বেও লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারি সাংসদ সংখ্যা ২৮-ই বহাল থাকছে। যদিও বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ পৃথক আসনে বসবেন, তবুও তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই গণ্য থাকছেন। ফলে সংসদে দলীয় হুইপ জারি হলে তা বিদ্রোহী সাংসদদের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রয়োগ হবে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্ষাকালীন অধিবেশনে কোনও গুরুত্বপূর্ণ আইন বা প্রস্তাবের ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস হুইপ জারি করলে, বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থান এবং সেই হুইপ কার্যকর করার বিষয়ে লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও সংসদীয় নজির হয়ে উঠতে পারে।



















