আগরতলা, ১৮ জুলাই: আসন্ন ভিলেজ কমিটির নির্বাচনকে সামনে রেখেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সচিব(পিকে) চক্রবর্তীকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক। আসলে মনোজ কুমার শাসক দলের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে পিকে চক্রবর্তীকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়ে সরব হয়েছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক তথা পলিটব্যুরো সদস্য জিতেন্দ্র চৌধুরী।
এদিন জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, নির্বাচন পরিচালনার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে এমন একজন ব্যক্তিকে বসানো উচিত, যাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে সকলের আস্থা থাকবে। কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। কারণ, পিকে চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে।
প্রদীপ চক্রবর্তী সম্পর্কে নিজের পূর্বের মন্তব্যের প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, তাঁর বক্তব্য কোনও ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। তথ্য জানার অধিকার আইনের মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রদীপ চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা তাঁর মতে, দায়িত্বশীল প্রশাসনিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, সরকারের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করতে না পারার কারণেই মনোজ কুমারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি পিকে চক্রবর্তীর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পিকে চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে এবং এমন একজন ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বে বসানো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
এদিন তিনি তিপরা মথা ও বিজেপির রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি বিভিন্ন জায়গায় অর্থ ও ক্ষমতার ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। মনোজ কুমার এই ধরনের উদ্দেশ্য পূরণে সহযোগিতা না করায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিন জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, তিনি সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তথা প্রাক্তন বিধায়ক সুধন দাস, বেলোনিয়ার বর্তমান বিধায়ক দীপঙ্কর সেন, দক্ষিণ জেলা সম্পাদক তাপস দত্ত এবং শতাধিক দলীয় কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বেলোনিয়া মহকুমার চিত্তাখোলা এলাকায় যাচ্ছিলেন। সেখানে দলীয় নেতা বাদল শীলের স্মৃতিস্তম্ভে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের কর্মসূচি ছিল। এই কর্মসূচির জন্য আগে থেকেই পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল এবং ডিজিপি অনুরাগ ধনখড়ের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু যাওয়ার পথে তাঁদের আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দক্ষিণ জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও একাধিকবার ফোনের পর অবশেষে কথা হয়। কিন্তু বিষয়টি জানানোর পরও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। আসলে ডিজিপি নিজেও এক পর্যায়ে এসপির আচরণে বিব্রত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু কর্মকাণ্ডে গোটা পুলিশ ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রাজ্যের বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা নিয়েও সরব হন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, খোয়াই-আগরতলা সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। অথচ সরকার উন্নয়নের বড় বড় দাবি করছে। আগরতলা শহর পরিদর্শন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্ষার সময় জল জমে থাকা ও নাগরিক সমস্যার সময় মুখ্যমন্ত্রী কেন সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হননি।
তিনি বলেন, সরকারের মেয়াদ ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই এখন বিভিন্ন প্রচারের মাধ্যমে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আগরতলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে সরকারের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার যে সমস্ত পরিকাঠামোর কথা বলছে, তার অনেকটাই পূর্ববর্তী সরকারের সময় তৈরি হয়েছে। তিনি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি সিভিল হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরা প্রয়োজন।
বিরোধী দলনেতা বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব হল সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং জনগণের স্বার্থে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া। আগামী দিনেও বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে আন্দোলন জারি থাকবে বলে জানান তিনি।



















