তিরুবনন্তপুরম, ২৯ মে (আইএএনএস) : নারী ও শিশু কল্যাণকে কেন্দ্র করে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করল কেরলের নতুন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ সরকার। শুক্রবার বিধানসভায় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকরের প্রথম নীতিগত ভাষণে স্কুলছাত্রীদের জন্য প্রতি মাসে সর্বাধিক তিন দিনের ঋতুকালীন ছুটির প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশনের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম নীতিগত ঘোষণায় এই উদ্যোগকে “মেনস্ট্রুয়াল ডিগনিটি” বা ঋতুকালীন মর্যাদা কর্মসূচির অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। এর লক্ষ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরকে নারী ও কিশোরীদের জন্য আরও সংবেদনশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলা।
নীতিগত ঘোষণায় জানানো হয়েছে, স্কুলপড়ুয়া ছাত্রীদের প্রতি মাসে সর্বাধিক তিন দিন পর্যন্ত ঋতুকালীন ছুটি দেওয়া হবে। পাশাপাশি পড়াশোনায় যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তার জন্য সপ্তাহান্তে বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থাও করা হবে।
ঘোষণাটি প্রকাশ্যে আসতেই তা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। নতুন সরকারের প্রথম বিধানসভা অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে।
সরকার আরও ঘোষণা করেছে, কেরলকে দেশের “সবচেয়ে নারী-বান্ধব রাজ্য” হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
নীতিগত ভাষণে কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য সমান বেতনের ব্যবস্থা, অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত মহিলাদের জন্য বিশেষ কল্যাণমূলক সুবিধা এবং আনুষ্ঠানিক চাকরির বাইরে থাকা মহিলা কর্মীদের জন্য ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে মহিলাদের জন্য গণশৌচাগার নির্মাণ এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন, জুতো-সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহজলভ্য করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
আরও একটি বড় সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে “ডেস্টিটিউট অ্যান্ড অরফ্যান ফ্রি কেরালা” প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। এর লক্ষ্য কেরলকে দেশের প্রথম অনাথমুক্ত রাজ্যে পরিণত করা।
জুভেনাইল জাস্টিস আইনের আওতায় এই প্রকল্পে বৃহৎ পরিসরে দত্তক গ্রহণ কর্মসূচি এবং প্রশিক্ষিত পালক পরিবারের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে অসহায় শিশুদের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আশ্রয়ের পরিবর্তে পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশে পুনর্বাসন করা যায়।
নীতিগত ভাষণে মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইনের অধীনে শিশু পরিচর্যা সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করার কথাও বলা হয়েছে। এর আওতায় সরকারি দফতর, শিল্প প্রতিষ্ঠান, আইটি পার্ক এবং ৫০ জনের বেশি কর্মী রয়েছে এমন কর্মস্থলে নিরাপদ ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্রেশ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধারাবাহিক কল্যাণমূলক ঘোষণার মাধ্যমে সতীশন সরকার শুরু থেকেই নিজেদের সামাজিকভাবে প্রগতিশীল ও জনমুখী প্রশাসন হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।



















