নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৯ মে : দলবিরোধী মন্তব্য ও সামাজিক মাধ্যমে দায়িত্বজ্ঞানহীন পোস্ট নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার রাজধানীর রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে নবনির্বাচিত বিজেপি রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায়কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, দলের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য বা পোস্ট করলে পদমর্যাদা নির্বিশেষে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দলের কিছু নেতার গোপন বৈঠক এবং সংগঠনের অভ্যন্তরে অসন্তোষের জল্পনার আবহে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দলের এক প্রবীণ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীকে সরানোর উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই রাজ্য বিজেপির অন্দরে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতেই এদিনের অনুষ্ঠানে দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। পরে নবনির্বাচিত রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায়কে ফুলের তোড়া ও উত্তরীয় পরিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানান তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, রাজ্য বিজেপির প্রভারি ডাঃ রাজদীপ রায়, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিধায়ক, সাংগঠনিক নেতৃত্ব এবং মণ্ডল স্তরের দলীয় কর্মী-সমর্থকরা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দলের নেতা বা কর্মীরা যদি সামাজিক মাধ্যমে দলের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন কিংবা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেন, তাহলে তা সরাসরি দলবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে বিবেচিত হবে। কেউ যত বড় পদেই থাকুন না কেন, উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার সঠিকভাবে কাজ করছে। কিন্তু একটি অংশ ধীরে ধীরে সংগঠনকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা যেন স্লো পয়জনের মতো সংগঠনের ভিত নষ্ট করার চেষ্টা করছে।”
বামপন্থীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সারা দেশে সিপিআই(এম)-এর রাজনৈতিক ভিত্তি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। ত্রিপুরাতেও তাদের অবশিষ্ট আসনগুলো দখল করতে হবে। মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং মিথ্যা প্রচার চালানোই তাদের রাজনীতি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর বামপন্থীদের মদতে বিজেপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তোলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, অতীতে যারা ‘সোনালি যুগ’-এর কথা বলতেন, তাদের আমলেই মাদকচক্রের বিস্তার ঘটেছিল। বর্তমানে সেই মাদক কারবারিরাই আইনের জালে ধরা পড়ছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন নবনির্বাচিত রাজ্য সভাপতি অভিষেক দেবরায়ও দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “দলের কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ বা মতভেদ থাকলে তার জন্য সাংগঠনিক ফোরাম রয়েছে। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ বা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা উচিত নয়। এই ধরনের পোস্ট দলবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবেই গণ্য হবে।”
তিনি আরও জানান, সামাজিক মাধ্যমের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের জন্য দলের নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে এবং কেউ সংগঠনের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে তা নজর এড়াবে না।
অনুষ্ঠানের শেষে বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতৃত্ব পৃথকভাবে অভিষেক দেবরায়কে সংবর্ধনা জানান। বিজেপির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিকে সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করার বার্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়।



















