কলকাতা, ২৩ মে (আইএএনএস) : রাজ্যে অনাদায়ী ঋণ, বিশেষ করে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে ব্যাঙ্কগুলির দীর্ঘদিনের দাবি মেটাতে উদ্যোগী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার।
রাজ্যের স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটি-র বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরেই একদিকে রাজ্য সরকার ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ-আমানত অনুপাত বা ক্রেডিট-ডিপোজিট রেশিও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছিল, অন্যদিকে ব্যাঙ্ক প্রতিনিধিরা ঋণ পুনরুদ্ধারে পর্যাপ্ত প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবের অভিযোগ তুলে আসছিলেন।
নবান্নের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রশাসনিক সহায়তার অভাবে ঋণ আদায়কারী কর্মীরা বহু সময় ঋণখেলাপিদের এবং তাদের সহযোগীদের হুমকি, হয়রানি এমনকি শারীরিক আক্রমণের মুখেও পড়তেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মদতের অভিযোগও উঠেছে একাধিক ক্ষেত্রে।
রাজ্য সরকারের এক আধিকারিকের কথায়, “নতুন সরকার এসএলবিসি বৈঠকে আরও সহযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়। ব্যাঙ্কগুলিকে সিডি রেশিও বাড়াতে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি ঋণ পুনরুদ্ধারকারী কর্মীদের নিরাপদে কাজ করার জন্য প্রশাসনিক সহায়তাও নিশ্চিত করা হবে।”
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ক্রেডিট-ডিপোজিট অনুপাত প্রায় ৭১ শতাংশ, যা জাতীয় গড় ৮২ শতাংশের তুলনায় অনেকটাই কম।
এছাড়াও নতুন সরকার তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুযোগ বাড়ানোর দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এসএলবিসি-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যে মোট প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশ সামাজিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তফসিলি জাতি ও উপজাতি অধ্যুষিত একাধিক কেন্দ্রে বিজেপির সাফল্যের পর এই সম্প্রদায়গুলির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই প্রান্তিক মানুষের জন্য ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।



















