ঢাকা, ২৩ মে (আইএএনএস) : বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ক্রমবর্ধমান হামলা, জমি দখল এবং ধর্মীয় উগ্রবাদের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা ও মানবাধিকার কর্মী তসলিমা নাসরিন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তসলিমা নাসরিন বলেন, “আপনি বলেছিলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু বাস্তবে আবারও আমরা দেখছি হিন্দুদের উপর হামলা, জমি দখল এবং গুজব ও অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের জীবন ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি “ইসলাম অবমাননা”-র অভিযোগ তুলে একাধিক হিন্দু যুবক ও ব্যক্তিকে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলি নিশানা করেছে।
তসলিমা নাসরিনের দাবি, সাতক্ষীরার স্কুলশিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার, গোপালগঞ্জের এক স্কুলের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর মিঠু মণ্ডল এবং গৌরীপুর কলেজের শাওন চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে হামলা চালানো হয়েছে। অথচ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে পুলিশই আক্রান্তদের গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জেল থেকে বেরিয়ে এরা কী করবে? চাকরি হারিয়ে, সামাজিকভাবে একঘরে হয়ে এবং চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে তারা কীভাবে বাঁচবে? তাদেরও কি শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হবে?”
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ মে সাতক্ষীরা জেলায় গৌরাঙ্গ সরকার নামে এক হিন্দু শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে মন্তব্যের জেরে মুসলিম ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে আটক করে পুলিশ।
একই দিনে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার শাওন চন্দ্র দাসকেও ইসলামি ধর্মগ্রন্থ অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের আগে “তৌহিদী জনতা” নামে পরিচিত একটি ইসলামপন্থী সংগঠন গৌরীপুর পৌর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে এবং শাওনের ফাঁসির দাবিও তোলে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনাগুলিকে “বাংলাদেশকে হিন্দুশূন্য করার ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের অংশ” বলে উল্লেখ করেন তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেন, “এর আগে রসরাজ দাস, টিটু রায়, উৎসব মণ্ডল, দীপু দাস-সহ বহু হিন্দুর জীবন ধ্বংস করা হয়েছে। ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছে। ঘরবাড়ি পুড়েছে, মন্দির ভাঙচুর হয়েছে, নিরীহ মানুষ জেলে গিয়েছে এবং অনেকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, দেশজুড়ে হিন্দুবিরোধী ঘৃণা ছড়ানো এবং গণপিটুনির ঘটনায় উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না।
তসলিমা নাসরিনের মতে, “ধর্ম অবমাননা”-র অভিযোগ এখন ভিন্নমত দমন, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন এবং সামাজিক সন্ত্রাস ছড়ানোর অস্ত্র হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “যারা ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে হিন্দুশূন্য দেশে পরিণত করতে চায়, রাষ্ট্র যদি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেয়, তাহলে সেই নীরবতা তাদের আরও উৎসাহিত করে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। অথচ আজ বাংলাদেশে সেই স্বাধীনতা প্রায় অস্তিত্বহীন।”
।।।।।



















