নয়াদিল্লি, ২৩ মে (আইএএনএস) : প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বরাবরই নিজেদের অত্যন্ত সক্রিয় হিসেবে তুলে ধরেছে। এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিজেদের জঙ্গিদের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। উদ্দেশ্য, নিরাপত্তা সংস্থার নজরদারি এড়িয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করা।
ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামিক স্টেট তাদের প্রচারমাধ্যম “ভয়েস অব খোরাসান”-এর মাধ্যমে অনুসারীদের নিয়মিত বার্তা পাঠাচ্ছে। সেখানে মূলত শেখানো হচ্ছে কীভাবে প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহার করেও নিরাপত্তা সংস্থার নজর এড়িয়ে চলা যায়।
২০১৩ সালে সিরিয়া ও ইরাকে কার্যক্রম শুরু করার সময় ইসলামিক স্টেট ভয় সৃষ্টি করতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল। সে সময় তারা হলিউড ধাঁচের স্টুডিও তৈরি করে শিরশ্ছেদের ভিডিও বানাত। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, সেই ভিডিওগুলির কিছু বাস্তব হলেও অনেক ভিডিও সাজানো ছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের ভয়ংকর ও শক্তিশালী হিসেবে তুলে ধরা।
পরবর্তীকালে সংগঠনটি এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা, অনলাইন প্রচার এবং উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার উপর জোর দেয়। বর্তমানে তাদের নিজস্ব ম্যাগাজিন ও নিউজলেটারও রয়েছে।
এআই প্রযুক্তির বিকাশকে ইসলামিক স্টেট নিজেদের প্রচারের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। বিভিন্ন ভাষায় ভিডিও ও প্রচারসামগ্রী তৈরিতে তারা এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে সংগঠনটি উপলব্ধি করেছে যে অতিরিক্ত প্রযুক্তি নির্ভরতা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই এখন তাদের অনুসারীদের শেখানো হচ্ছে কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করেও নিরাপদ থাকা যায়।
“ভয়েস অব খোরাসান”-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করতে সাধারণ চ্যাটবট ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। পরিবর্তে “ব্রেভ লিও”-র মতো গোপনীয়তাকেন্দ্রিক টুল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, “এআই আগুনের মতো। এটি যেমন ঘর আলোকিত করতে পারে, তেমনই সবকিছু পুড়িয়ে দিতেও পারে।”
সংগঠনটি তাদের জঙ্গিদের প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তোলার পরামর্শও দিচ্ছে বলে দাবি গোয়েন্দা সূত্রের।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের বক্তব্য, বিশ্বজুড়ে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারি ও অভিযান বাড়ায় সংগঠনটি বুঝতে পেরেছে যে প্রযুক্তি ব্যবহারে অসাবধানতার কারণে তাদের অনেক সদস্য ধরা পড়ছে। সেই কারণেই বারবার এমন “টিউটোরিয়াল” দেওয়া হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রের মতে, এটি ইসলামিক স্টেটের অবস্থানে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। গত বছর পর্যন্ত সংগঠনটি এআই প্রযুক্তিকে “অইসলামিক” বলত। অথচ এখন তারা অনুসারীদের বলছে, এআই ব্যবহার করা নাকি “ধর্মীয় কর্তব্য”-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ।
অধিকর্তাদের মতে, সময়ের সঙ্গে নিজেদের কৌশল বদলাতে পারার ক্ষমতাই ইসলামিক স্টেটকে বিপজ্জনক করে তুলেছে। সংগঠনটি বুঝে গিয়েছে যে প্রযুক্তি যেমন তাদের শক্তি বাড়াতে পারে, তেমনই একই প্রযুক্তি তাদের খুঁজে বের করতেও ব্যবহৃত হতে পারে।
ভারতে ইসলামিক স্টেটের কৌশলও আলাদা বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। লস্কর-ই-তইবা বা জইশ-ই-মহম্মদের মতো সরাসরি হামলার পরিকল্পনার বদলে ইসলামিক স্টেট বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে অনলাইন প্রচার ও তরুণদের উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করার দিকে। তাদের লক্ষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে যুবসমাজকে প্রভাবিত করে ভবিষ্যতে হামলার পরিবেশ তৈরি করা।



















