নয়াদিল্লি, ২৩ মে (আইএএনএস) : ২০২৩ সালের সংসদ নিরাপত্তা ভাঙন মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৪ হাজার পাতার চতুর্থ সম্পূরক চার্জশিট জমা দিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর আওতায় দায়ের করা এই চার্জশিটে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং দাঙ্গা উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পাতিয়ালা হাউস কোর্টে জমা দেওয়া এই সম্পূরক চার্জশিট বৃহস্পতিবার আদালতের নথিভুক্ত করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থা মোট ১৩,৯৬৭ পাতার ‘সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট-০৪’ জমা দেয়।
অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অমিত বনসল-কে সরকারি আইনজীবীরা জানান, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৬, ৩৫৩, ১৫৩, ৪৫২, ২০১, ৩৪ এবং ১২০বি ধারার পাশাপাশি ইউএপিএ-র ১৩, ১৬ ও ১৮ ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
শুনানির সময় জামিনে থাকা অভিযুক্ত নীলম প্রজাপতি ওরফে নীলম আজাদ এবং মহেশ কুমাওয়াত আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা মনোরঞ্জন ডি, অমল ধনরাজ ওরফে অমল, সাগর শর্মা এবং ললিত ঝাকে আদালতে হাজির করা হয়।
তদন্তকারী অফিসার এসিপি ধর্মেন্দ্রর পক্ষে এসআই অমিত ভাটি আদালতে উপস্থিত হয়ে সম্পূরক চার্জশিট জমা দেন। অভিযুক্ত ও তাঁদের আইনজীবীদের পেন ড্রাইভের মাধ্যমে চার্জশিটের কপি সরবরাহ করা হয়।
তবে নীলম আজাদ ও অমল ধনরাজের আইনজীবীরা এই পর্যায়ে এত বিশাল চার্জশিট জমা দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তাঁদের দাবি, যখন অভিযোগ গঠনের শুনানি ইতিমধ্যেই দীর্ঘ সময় ধরে চলছে, তখন এই ধরনের অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেওয়া “আইন প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহার”।
প্রতিরক্ষা পক্ষ চার্জশিটের হার্ড কপিও চায়। এরপর সরকারি পক্ষ আদালতকে আশ্বাস দেয় যে, পরবর্তী শুনানির দিন হার্ড কপি সরবরাহ করা হবে। আদালতও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের হার্ড কপি দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং আগামী ২৯ মে দুপুর ২টায় নথিপত্র খতিয়ে দেখা ও পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে।
সর্বশেষ সম্পূরক চার্জশিটে সরকারি কর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি, দাঙ্গায় উসকানি, প্রমাণ নষ্ট এবং ইউএপিএ-র আওতায় সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর সংসদের ভিতরে ও বাইরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ভাঙনের ঘটনা ঘটে। দিনটি ছিল ২০০১ সালের সংসদ হামলার ২২তম বর্ষপূর্তি।
অভিযোগ, সেই ঘটনায় সাগর শর্মা ও মনোরঞ্জন ডি দর্শক গ্যালারি থেকে লোকসভা কক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়ে ধোঁয়ার ক্যানিস্টার থেকে হলুদ ধোঁয়া ছড়ায়। এতে সংসদ কক্ষে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাংসদ ও নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের পাকড়াও করেন।
একই সময়ে সংসদ ভবনের বাইরে নীলম আজাদ ও অমল রঙিন ধোঁয়া ছড়িয়ে স্লোগান দেন বলেও অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, গোটা ঘটনার মূল চক্রী ছিলেন ললিত ঝা। ঘটনার পর সহ-অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে গিয়ে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টাও করেছিলেন তিনি।
স্পেশাল সেল এখনও এই নিরাপত্তা ভাঙনের পেছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, সমন্বয় ও অভিযুক্তদের পারস্পরিক যোগাযোগের দিকগুলি খতিয়ে দেখছে।



















